নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশায় যখন দলকে সুসংগঠিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে এসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আগামীতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শিল্পপতি শাহ আলমের নাম ঘোষণা করে গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শাহ আলমকে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা ঘোষণা করায় তৃণমূলে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দল সুসংগঠিত হওয়ার পরিবর্তে আরো বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু মাত্র ব্যবসার খাতিরেই তখন ফতুল্লায় আসতেন তখন শাহ আলম। ওয়ান ইলেভেন সময়কালে তার নাম প্রথম শোনা যায়। রাজনীতির ময়দানে নেমেই কিংস পার্টি খ্যাত কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কোষাধ্যক্ষ পদ বাগান। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের টিকেট পেয়ে যান এক যাদুর চেরাগের মহীমায়। নির্বাচনের পরাজয় বরণ করলেও ওই দলের একাধিক পদ তার বগলদাবা হয় সেই চেরাগেই।

তারপর কদাচিৎ দলীয় কর্মসূচীতে থাকতেন তিনি, তাও অনেক মহল ম্যানেজ করে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি হয়ে যান একেবারে উধাও। এরপরেও এবার তিনি হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি। জেলা কমিটির নব গঠিত কমিটিতে নেতা নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা ছিল শাহ আলমের, যিনি এখন তিনি বিএনপির ‘আন্ডার’ গডফাদার হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন।

তারা আরো অভিযোগ করেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে গণসংযোগের সময় সাধারন মানুষের সাথে হাত মিলিয়ে পরক্ষনে টিস্যু পেপারে মুছতেন শাহ আলম। নেতাকর্মীদেরও কাছে টেনে নিতে পারেননি বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত এই খন্ডকালিন রাজনীতিক। ফলে ফতুল্লা বিএনপির ভোটের ঘাঁটি হলেও আওয়ামীলীগের প্রার্থী চলচ্চিত্র নায়িকা বহিরাগত কবরীর কাছে হেরে যান তিনি। অবশ্য এ ভোটে তাকে হারানো হয়েছে বলে দাবি করতেন শাহ আলম। তবে আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেননি।

এদিকে নির্বাচনে হারলেও বিএনপির একাধিক পদ তার কব্জায় আসে। ফতুল্লা থানা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি কে হটিয়ে তিনি নিজে সভাপতি হন। এ সময় তখনকার সাধারন সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু তাকে সহযোগীতা করেন। তবে সভাপতি হয়ে তিনি তাকেও সরিয়ে দেন। সাধারন সম্পাদক পদে বসান তার চেয়েও বেশী কৌশলী কারো মতে সুবিধাবাদী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে।

একই কায়দায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিতেও তার পছন্দের লোক ও আত্মীয় স্বজনদের জায়গা করে দেয়া হয়। তার ছোট ভাই সাহিদুল আলমকে দেয়া হয় থানা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ। ভায়রা মোস্তাফিজুর রহমান রুমী চৌধুরী, শশুর বাড়ির আত্মীয় কবীর প্রধানসহ অনেকেই বিনা বাঁধায় পেয়ে যান পদ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের কাছে শাহ আলমকে সোনার ডিম পাড়া হাঁস মনে করা হয়। তারা যখন চান তখনই সোনার ডিম পাড়েন তিনি। তাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল হাই কমান্ড। ফলে শাহ আলমের অনুষ্ঠানে এসে আগামী নির্বাচনে এই শাহ আলমকেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লায় শাহ আলমের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যকালে গয়েশ^র রায় শাহ আলমের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। আর ঘুম হারাম করে দেন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here