নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই, বিএনপি’র সাহসী নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চাই, ঘরে বসে রাজনীতি করতে চাই না। ব্যক্তির রাজনীতি পরিহার করে শহীদ জিয়ার আদর্শ ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া আমাদের সকলের ঈমানী দায়িত্ব। দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধীকার ফিরিয়ে দিতে আগামী নির্বাচনে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দিবে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবো এবং স্বৈরাচারী সরকারকে বিতারিত করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় আনবো।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ১৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) বিকেলে নগরীর আল আমিন নগরে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, স্বাধীনতার পর এদেশে সকল দলের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল কওে এক দলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করা হয়েছিলো। তখন আওয়ামীলীগের রেজিষ্ট্রেশনও বাতিল হয়ে গিয়েছিলো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশে বহু দলীয় গনতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন আওয়ামীলীগের রেজিষ্ট্রেশনও শহীদ জিয়া দিয়েছিলেন। তাই বর্তমান আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিলো শহীদ জিয়ার মাধ্যমে। এখনও সেই বাকশালী প্রেতাত্মারা ক্ষমতায় এসে এক দলীয় শাসন কায়েম করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দেশে আর বাকশাল কয়েম করতে দেবো না। দেশের মানুষকে বাকশালি শাসন থেকে মুক্তি দিতে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল সাহসী নেতাকর্মীদেও ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূট দেওয়া হয়েছে দলকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে। কিন্তু আমরা এই কার্যক্রম বিচ্ছিন্নভাবে পালন করছি। নিজেরাতো করছিই না, অন্য কেউ করলে তাকে নাজেহাল করছি। শহীদ জিয়ার আদর্শ হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ। কিন্তু আমরা শহীদ জিয়ার সেই মূল মন্ত্র ভুলে গিয়ে দেশের চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে ব্যক্তি-এই অপরাজনীতি শুরু করেছি। তাই দেশের মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ আওয়ামী দু:শাসন থেকে মুক্তির জন্য বিএনপি’র দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আর আমরা আমাদের ব্যক্তি নির্ভর রাজনীতির মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা নষ্ট করছি। বিএনপি’র প্রাণ হচ্ছে তৃণমূল। নেতাদেও মধ্যে ক্ষমতার লোভ লালসা আছে, কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মীরা নি:স্বার্থভাবে দলের জন্য রাজনীতি করে। আমরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এসব সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রতিও অবিচার করছি। তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল সিনিয়র নেতাদের বলবো, সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করি। কারন ধানের শীষের বিজয় মানে দেশের সাধারণ মানুষের বিজয়।

রাজিব আরো বলেন, সাখাওয়াত ভাই আইনাঙ্গণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, রাজনীতিতেও রাখবেন বলে আশা করছি। কে আপনার সাথে আসলো আর কে না আসলো সে হিসেব কওে লাভ নেই। আপনি কারো সঙ্গে কোন আপোষ করবেন না। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব দরকার। আগে যারা এমপি মন্ত্রী ছিলেন, তারা নেতাকর্মীদের চাকর বাকর মনে করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইতো। তাই সময় এসেছে পরিবর্তনের। আর এই পরিবর্তনের মিছিলে সাখাওয়াত ভাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন বলে আশা করছি।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এড. নুরুল কাদির সোহাগের সভাপতিত্বে ও মহানগর মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. শাহ মাজহারুল হক , জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাদেকুর রহমান সাদেক, জেলা পরিবহন শ্রমিক দলের সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম, বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি সামিউল্লাহ বাবুল, মহানগর বিএনপির নেতা হাজী ইসমাইল হোসেন, গুলজার হোসেন খান, তৃণমূল দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমএ হাসেম অপু, জেলা যুব আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. আঞ্জুমান আরাফাত রিফাত, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here