নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র কওে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে শুরু হয়েছে চরিত্র হননের রাজনীতি আর নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ নেতাদের পরিচালিত এই অপকর্মে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন দুই দলের মহানগর কমিটির দুই সাংগঠনিক সম্পাদক-এমনটাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারী এড. খোকন সাহা ওসমান পরিবারের চরিত্র হননের জন্য ব্যবহার করছেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাকে আর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সেক্রেটারী এটিএম কামাল সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ব্যবহার করে সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের চরিত্র হননের খেলায় মেতে উঠেছেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সূত্র ধরে জানা যায়, সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিও নির্বাচনের উত্তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর এই তাপে প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে দিতে আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে অপরাজনীতির। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে করা হচ্ছে চরিত্র হনন। আর প্রযুক্তির কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার সুযোগে খুব সহজেই তা চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনীতিবীদরা। আর তাই নীতির রাজা রাজনীতি এখন রাজার নীতিতে পরিনত হয়েছে। রাজার ইচ্ছায় তার অনুগত প্রজারা রাজার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছেন চরিত্র হননের অপকর্ম।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে পরিচিত এড. খোকন সাহা আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নের লোভে দীর্ঘদিনের বন্ধুতা ভুলে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন ওসমান পরিবারের বিপক্ষে। কারন ওই আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান হচ্ছেন শামীম ওসমানের বড় ভাই। নির্বাচনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তিনি বেমালুম ভুলে গেলেন তার এতোদিনের বন্ধুর সম্পর্ক এবং তার আজকের খোকন সাহা হয়ে উঠার নেপথ্য কারিগর বন্ধু শামীম ওসমানের অবদান।

আর খোকন সাহার সাথে এ বিষয়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের ‘বেঈমান’ গুরু মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। মনোনয়ন দখলের খেলায় জয়ী হতে খোকন সাহা তার একান্ত অনুগত মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাকে ব্যবহার করলেন দাবার গুটি হিসেবে ওসমান পরিবারের চরিত্র হননের জন্য। গুরুর নির্দেশ শিরোধার্য মনে করে মাহমুদা মালা একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছেন ওসমান পরিবার বিরোধী বিতর্কিত বক্তব্য, বিবৃতি আর ফেসবুক ষ্টেটাস। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বইছে সমালোচনার ঝড়।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র রাজনীতিতেও চরিত্র হননের রাজনীতির প্রচলন করলেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে তিনবারের নির্বাচিত এমপি এড. আবুল কালামের দলীয় মনোনয়ন অনিশ্চিত করে তোলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে শুরু করেন ষড়যন্ত্র। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দীতা করতে অপারগতা প্রকাশ করা এড. আবুল কালামের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে।

কারন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের অপারগতায় মাঝারি সারির নেতা এড. সাখাওয়াত হোসেন খান খান দ্রুতই চলে আসেন লাইম লাইটে। কেন্দ্রেও সাখাওয়াতের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় অনেকগুণ।

আর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সাথে বেঈমানি করায় এড. আবুল কালাম কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হয়ে যান অপরাধী। দিন যত গড়াতে থাকে, কালামের জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা-দুটিই কমতে থাকে। অন্যদিকে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করার পুরস্কার হিসেবে তৃণমূল থেকে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সাখাওয়াতের প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাখাওয়াত।

তাই মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পথের কাঁটা সাখাওয়াতকে সড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন এড. আবুল কালাম।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এড. সাখাওয়াত হোসেনের নাম চলে আসার পর থেকেই ঘুম হারাম হয়ে যায় এড. আবুল কালামের। সাখাওয়াতকে ঠেকানোর মিশনে নেমে পরেন এই কৌশলী রাজনীতিবিদ।

এক্ষেত্রে আবুল কালামকে যোগ্য সহায়তা দিচ্ছেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। সাখাওয়াতকে ঘায়েল করতে আবুল কালাম সাখাওয়াতের আশ্রয় প্রশ্রয়ে লালিত পালিত মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিজের কব্জায় নিয়ে আসেন। আর টিপুকে ব্যবহার করে শুরু করেন সাখাওয়াতকে অপমান-অপদস্ত করার মাধ্যম চরিত্র হননের প্রক্রিয়া।

যার প্রথম ধাপে সাখাওয়াতকে ওসমান পরিবারের সাথে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা গ্রহনের নাটক সাজানো হয়। যদিও পরে টিপু তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

এরপর থেকে টিপু কালামকে খুশি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে একেক দিন একেক আঙ্গিকে চালিয়ে যাচ্ছেন সাখাওয়াত বধের অপপ্রচার। যাতে সাখাওয়াতের চেয়ে কালাম টিপুর বিকৃত মানষিকতার দুর্বল দিকটিই ফুটে উঠছে বলে মনে সবাই। আর তাই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে ব্যক্তি চরিত্র হননের অপসংস্কৃতি বন্ধের আহবান রাজনৈতিক সচেতন মহলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here