নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পরিবারের জন্য দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে পুলিশের চোঁখকে ফাকি দিয়ে কিছু পুরাতন কাপড় নিয়ে বিক্রি করতে ফুটপাতে বসেছিলেন দরিদ্র হকার সাজু (৩৫)। কিন্তু বিধি বাম! পেটের তাগিদে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মাল বিক্রি করার অপরাধে খোদ তাকেই পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটার শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় যেতে হলো হাসপাতালে।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারী) বিকাল ৪টায় শহরের চাষাড়াস্থ সোনালী ব্যাংক এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত জখম হকার সাজু সদর থানার নগর খাঁনপুর এলাকার মৃত আহাদ আলীর ছেলে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল ৪টায় শহরের চাষাড়া সোনালী ব্যাংকের সামনে বসে সাজু কিছু কাপড় বিক্রি করছিল। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশের এস আই জামাল ঘটনাস্থলে এসে কোন কিছু না বলেই ফুটপাতের হকার সাজুকে বেধড়ক ভাবে পেটাতে থাকে। পুলিশের লাঠিচার্জে সাজু শরীরে ও ঠোটে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তখন তার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হতে থাকলে আশপাশের লোকজন এসে সাজুকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩’শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

খানপুর ৩’শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত সাজু ঠোটে ৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় উত্তেজিত হকাররা রাজপথে নামতে চাইলে তখন সবাইকে এমপি সেলিম ওসমানের আহ্বানে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: আসাদুল ইসলাম আসাদ।

আর ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষনিক খানপুর হাসপাতালে যেয়ে আহত হকার সাজুর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি আব্দুর রাজ্জাক।

এসময় উপস্থিত চিলেন, সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ফুটপাতে বসার নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হকারদের ধাওয়া দিলে সাজু রাস্তায় পরে গিয়ে ঠোঁটে ব্যাথা পেয়েছে এ কথা আমি জানতে পারি। পরবর্তীতে আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে এ ঘটনায় তার নিকট দুঃখ প্রকাশ করি এবং বিষয়টি পরবর্তীতে দেখা হবে বলে আমি তাকে বলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here