নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, বন্দর প্রতিনিধি: যাত্রী পারাপারের নামে ঘাট ইজারা এনে চুটিয়ে বালুর ব্যবসা করছে চিত্তরঞ্জন গুদারা ঘাটের সন্ত্রাসী ইজারাদার। ইজারাদারের বাধায় ঘাটে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করতে পারছেনা সিটি করপোরেশন। পার্শ্ববতী নতুন একটি ঘাটে সুসজ্জিত যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করা হলেও দুইশ’ বছরের প্রাচীন এই ঘাটে কোন যাত্রী ছাউনী নেই। এতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা জানান, বালুর ব্যবসার কারণে ইজারাদার ঘাটে কোন ট্রলার রাখতে দেননা। ছোট একটি ট্রলার থাকে । যার যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৫০ জন ।

কিন্তু প্রতি ট্রিপে যাত্রী উঠেন দুই শতাধিক। অফিস সময়। তাই ট্রলার ধরতে যাত্রীদের হুড়ো হুড়ি পড়ে যায়। ট্রলারে কার আগে কে উঠবেন এমন হুলোস্থুল কান্ড ঘটে। উঠার সুযোগ না পেয়ে পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে বসে থাকেন বয়স্ক ও বৃদ্ধ যাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীরাও দুভোর্গের শিকার হয়। সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা এবং সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ থাকে ঘাটটিতে। এ অবস্থায় চাপ সামাল দিতে উলে¬খিত সময়ে দুটি টলার চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। কিন্তু চলে মাত্র একটি ছোট ট্রলার। এই ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হন বন্দরের কয়েক হাজার যাত্রী। সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা এবং যাত্রীদের দাবি সত্ত্বেও বাড়ানো হয়নি যাত্রীবাহী ট্রলার। এ জন্য ঘাট ইজারাদারের অবহেলা ও উদাসিনতা দায়ী করেছেন যাত্রীরা। অতি মুনাফার কারণে বাড়ছে না যাত্রী সেবার মান।

এ ছাড়া অতিরিক্ত টোল আদায়সহ যাত্রী হয়রানী এবং নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। যাত্রীরা জানান, চিত্তরঞ্জন গুদারাঘাট নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভূক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এ ঘাট দিয়ে নদী পার হন। যাত্রীদের বেশীর ভাগই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও হুসিয়ারী শ্রমিক। কিন্তু এ ঘাটে যাত্রী সেবা বলতে কিছু নেই। প্রতিদিন দুটি ট্রলারে যাত্রী পারাপারের কথা থাকলেও চলে মাত্র একটি ছোট ট্রলার। এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ জন। প্রতি ট্রিপে যাত্রী উঠে দুই শ’রও বেশী। সকালে এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ থাকে।

এ সময় ২/৩ টি ট্রলার যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত করা হলে পারাপার নিব্র্গ্নি করা যেত। কিন্তু ট্রলার সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে ইজারাদারের কোন আগ্রহ নেই বলে যাত্রীরা জানান। এই ঘাটে ছোট কয়েকটি নৌকা চলাচল করে। ভাড়া মাথা পিছু ৫ টাকা। ছোট নৌকাগুলি যাত্রী নিতে চায়না। তারা মালামাল পারপারে ব্যস্ত থাকে। মাল বহন করে টাকা বেশী পাওয়া যায়। তাই যাত্রীদেও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে মাঝিরা। যাত্রীরা জানান, ঘাটে একটি মাত্র ট্রলার চলে ,তাও আবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্ধ রাখ্ াহয়। এ সময় ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হন যাত্রীরা। চলাচল নির্বিগ্ন করতে ট্রলারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাত্রী সেবার মান বাড়ানো দাবি জানালেই ইজারাদারের লোকেরা যাত্রীদের প্রাণনাশের হুমকিসহ শারীরিকভাবে লাঞ্জিত করে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। যাত্রীরা জানান, চিত্তরঞ্জন গুদারাঘাটের ইজারাদার একজন সন্ত্রাসী। সিটি করপোরেশন থেকে যাত্রী পারাপারের নামে ঘাট ইজারা এনে ঘাটে দেদারছে বালু ব্যবসা করছে ইজারাদার। বালুর ট্রলার ও ট্রাকের আনাগোনায় ঘাটটি সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত থাকে।

বালুর ট্রলার ও ট্রাকের কারণে যাত্রীরা চলাচল করতে পারেনা। সন্ত্রাসী ইজারাদারের বাধার কারণে ঘাটে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করতে পারছেনা সিটি করপোরেশন। যাত্রী ছাউনী নির্মিত হলে তার বালু ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে দুইশ’ বছরের প্রাচীন এই ঘাটে কোন যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না। যাত্রীরা জানান, চিত্তরঞ্জন গুদারাঘাটের সব যাত্রী নদীর পূর্বপাড়ের বাসিন্দা। সন্ত্রাসী ইজারাদার থাকেন নদীর পশ্চিম পাড়ে। তার এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে যাত্রীরা থাকেন ভীত সন্ত্রস্ত। এ কারণে ইজারাদারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করার সাহস পান না তারা। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here