নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী ইংরেজী নববর্ষের দিন থেকেই নগরবাসীকে যানজট মুক্ত নগরী উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়ে এখন ‘চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান। আর যার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে ১ ডিসেম্বর থেকেই বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
কেননা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর অনুরোধে শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে সেলিম ওসমান ট্রাক স্ট্যান্ড উঠানোর পর নগরীর যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও নগরীর প্রধান সড়ক জুড়ে দু’ধারেই অবৈধ ভাবে গাড়ী পার্কিং করে রাখায় এখন নিত্য যানজটে সাধারন যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শুধু সড়কই নয়, সাধারন মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত নগরীর ফুটপাত গুলোও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে মোটর সাইকেল ও গাড়ীর পার্কিং স্থান হিসেবে। আর দোষ দেয়া হচ্ছে শুধু হকারদের বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন পথচারীরা।

মাঝে মধ্যে ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হলেও ফুটপাতের উপর অবৈধ ভাবে পার্কিং করে রাখা যানবাহন গুলো যেন প্রশাসনের কারোই নজরে আসছে না। ফলে হকারদের পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং স্থল হিসেবে ফুটপাতও বেদখল হয়ে যাচ্ছে মোটর সাইকেল ও ব্যাক্তিগত গাড়ী চালকদের কাছে।

রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেল গেইট পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতগুলো এখন হকারদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মটর সাইকেলের পাকিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কের পাশে অবস্থিত বহুতল বানিজ্যিক ভবনগুলোর নিজস্ব পাকিং না থাকায় রাস্তা ও এর পাশের ফুটপাতের উপর পাকিং করে রাখা হয় এ যানবাহনগুলো। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গাড়ী এমনভাবে রাখা হয়, যাতে করে পথচারীরা হেঁটে পার হতে অসুবিধায় পরতে হয়। আর যানজটের ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শহরের চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখা গেছে শহীদ মিনার সংলগ্ন মার্ক টাওয়ারের সামনে ১০/১৫টা মটর সাইকেল ফুটপাতের উপর পার্ক করা। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এই হোন্ডাগুলো বিকাশ এজেন্টদের। মার্ক টাওয়ারের উপর বিকাশের অফিস থাকায় বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাদের মটর সাইকেলগুলো ভবনের সামনের ফুটপাতে পার্ক করে অফিসে আসেন।

আর একটু এগিয়ে পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনেও দেখা মিললো অনেকগুলো হোন্ডা ও দুটি প্রাইভেট কার পার্ক করে রাখা আছে। হোন্ডাগুলো ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধির আর গাড়িগুলো ডাক্তারদের।

পপুলার থেকে আরেকটু এগিয়ে মইন টাওয়ারের সামনের রাস্তা ও ফুটপাতে পার্ক করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী লেখা সবুজ রঙের বিশালাকায় দুটি জীপ। গাড়িগুলোর আশেপাশে ড্রাইভার বা অন্য কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় জানা যায়নি গাড়িগুলো এখানে কে বা কেন রেখেছে।

শহরের ২নং রেল গেইট সংলগ্ন আল হাকিম সেন্টারের সামনেও দেখা গেলো অনেকগুলো মটর সাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি।

আর এসব দেখে ক্ষোভের সঙ্গে এক পথচারী জানান, ফুটপাত দখলের অপবাদ শুধু গরীব হকারদেরকেই দেওয়া হয়। অথচ শিল্পপতি গাড়িওয়ালারাও যে ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে সেই প্রতিবাদ কেউ করে না। আর প্রতিবাদ করেই লাভ কি! যারা এই সমস্যার সমাধান করবে, সেই আইন রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবেধভাবে পাকিং করে রাখা হয়। তাই সর্ষের মধ্যে ভুত থাকলে সে ভুত তাড়াবেন কি করে?

তাই চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নগরীকে যানজট মুক্ত করার যে ঘোষণা সেলিম ওসমান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করাটা রীতিমত চ্যালেঞ্জের ব্যাপার বলেই মন্তব্য করেন নগরবাসী। কেননা, ট্রাফিক পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসন যেখানে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে একেবারেই যানজট মুক্ত নগরী গড়া অনেকটাই চ্যালেজিং।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here