নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরোধীতা আর একজন ইসির আপত্তি স্বত্তেও সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই সদ্য নারায়ণগঞ্জ জেলায় যোগদান করেছেন খারাপ মানুষের আতঙ্ক হিসেবে আলোচিত পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদ পিপিএম (বার), বিপিএম (বার)।
আর ঠিক তার পরদিনই অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের বিশেষ অভিযানে নামতে হয়েছে এবার তাঁকে।

যেটিকে নবাগত পুলিশ সুপারের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার চ্যালেঞ্জের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানাগেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৫ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিভাগীয় রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে নারায়ণগঞ্জসহ বিভাগীয় সকল জেলায় ৫ দিন ব্যাপী অস্ত্র, মাদক উদ্ধারসহ জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

আর এই অভিযানের ক্ষেত্রে অপরাধ প্রবণ জেলা হিসেবে চিহিৃত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কারন, ইতিপূর্বেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একাধিক পুকুর, ডোবা থেকে রেকর্ড সংখ্যক গোলাবারুদ, মর্টার শেল, কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি, গ্রেনেড, কাটা রাইফেলসহ শতশত বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই জঙ্গিদের গ্রেফতার করছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। তাছাড়াও গত এক মাসে একাধিক থানা এলাকা থেকে গুলি ভর্তি বিদেশী অস্ত্রসহ একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আবার র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহতও হয়েছেন শীর্ষ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী।

কিন্তু তারপরেও নারায়ণগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। আর সন্ত্রাসীদের মহড়ার সাথে চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানী।
তাই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের চ্যালেঞ্জে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে অপরাধী দমনে বিশেষ অভিযানে নেমেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন।

এই লক্ষ্যে গত ৪ ডিসেম্বর সকালে নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় যোগদানের পরই জেলার ৭ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শকসহ সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসে যান হারুন অর রশিদ। নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে ডিআইজি রেঞ্জের নির্দেশনা মোতাবেক ৫ ডিসেম্বর থেকে জেলার সকল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এসপি।

যা গত ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরই বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জানান, মো: হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন করাটাই হচ্ছে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ। ৫ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশে জেলায় ৫দিন ব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এব্যাপারে সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি আমি নিজেও মাঠে নামবো। কারন আমি খারাপ মানুষের জন্য আতংক হিসেবে পরিচিত। মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ অপরাধী এবং তাদের প্রশ্রয়দাতা যেই ই হউক না কেন, সে যদি কোন পুলিশ সদস্য কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাও হয় তবে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।’

আর তাই ৫ দিন ব্যাপী শুরু হওয়া পুলিশের বিশেষ অভিযানটিকেই নবাগত পুলিশ সুপারের সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ উত্তীর্ণের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্ষ্ঠুু ভাবে পরিচালনা স্বার্থে সম্প্রতি সারাদেশের সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন ৭০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিলেন বিএনপিসহ ২৩ দলীয় জোটের সমন্বয়ে গঠিত দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা। যেখানে সেই ৭০ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান ও নবাগত পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদের নামও ছিল।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আনিসুর রহমানের এমপি পত্মীসহ তোলা একটি ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে তাঁকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হলে নির্বাচন কমিশনের অনাপত্তি পত্রের প্রেক্ষিতে হারুন অর রশিদকে ডিএমপি থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে বদলীর নির্দেশ দিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

তবে হারুন অর রশিদকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বদলীর ক্ষেত্রে সিইসিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসি সম্মতি দিলেও একমাত্র ইসি মাহবুব তালুকদার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এরপর ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলায় এসে পুলিশ সুপার হিসেবে নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেন মো: হারুন অর রশিদ পিপিএম (বার), বিপিএম (বার)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here