নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রয়াত পৌর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার কণ্যা ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। নগরবাসীর উন্নয়ণে যার লড়াইটা শুরু হয়েছিল বিগত ২০০৩ সাল থেকেই। প্রতিটি কাজকেই চ্যালেঞ্জের সাথে মোকাবেলা করেছেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বে জীবনে নানা প্রতিকূলতা, বাঁধা বিপত্তি আসলেও কখনো পিছপা হননি আইভী।
সততা, নিষ্ঠা ও সাহসীকতার সাথে উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ডের কারনে নগরবাসীর কাছে তিনি এখন একজন সফল মেয়র আইভী। কর্মজীবনে পেয়েছেন জনগণের অকৃত্রিম ভালবাসা, পেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্মান।

মঙ্গলবার সেই ৯ জানুয়ারী ২০১৮। দ্বিতীয় মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি।

গত ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আইভী বিএনপির প্রাথী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানেেক প্রায় ৭৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট শপথ গ্রহণ করে ৯ জানুয়ারী নগর ভবনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সেইদিন সকালে হাজারো জনতার ¯্রােত ভেঙে ফুলবৃষ্টির মধ্য দিয়েই নগরীর দেওভোগস্থ পৈত্রিক বাড়ী থেকে পায়ে হেঁটে নগর ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নগর মাতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।

নগর ভবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্ছসিত নগরবাসীর উদ্দেশ্যে আইভী সেদিন বলেছিলেন, ‘এই নগর ভবন হবে সার্বজনীন। দল, মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমি সবার সেবা করব। কারণ আমাকে দল, মতের ঊর্ধ্বে উঠেই সবাই ভোট দিয়েছেন। আমি, আমার বাবা আলী আহমদ চুনকার মতই নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করেছি। কখনো বেঈমানী করিনি। আগামীতেও বেঈমানী করব না।’

এরপর থেকেই নগরীর দারিদ্র বিমোচন, তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথা রাস্তা, ড্রেন, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ ও পুননির্মাণ, যানজট নিরসন, পানিবদ্ধতা দূরীকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংস্কার, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও রাস্তায় বাতি স্থাপনসহ উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ডে অতীতের ন্যায় নিষ্ঠা ও সাহসীকতার সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েন আইভী।

এই এক বছরে বেশ কয়েকটি কাজে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছিল আইভীকে। যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, ২০১৭-১৮ইং অর্থবছরে নতুন করে কোন কর আরোপ ব্যাতীতই প্রায় ৬শ’ ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত লেক সৌন্দর্য্য রক্ষার্থে জিমখানা বস্তি উচ্ছেদ, মন্ডলপাড়া ব্রীজ টু নিতাইগঞ্জ অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, ডিআইটির বিএনপি কার্যালয় উচ্ছেদ, বিনোদন সুপার মার্কেট উচ্ছেদ এবং ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ।

যার প্রত্যেকটিতেই নানা বাঁধা আসা সত্ত্বেও বরাবরের ন্যায় সফলই হয়েছেন আইভী। বিনিময়ে একবছরের মধ্যে পেয়েছেন উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও জনগণের সহযোগিতা ভালবাসা সম্মান।

যেই কারনে আইভী বরাবরই বলে থাকেন, ‘যেকোন কাজ করতে গেলে বাঁধা আসবেই। আর কাজে বাঁধা না আসলেও সেই কাজ করে মজা পাওয়া যায় না। কিন্তু সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে জনগণকে সাথে নিয়েই নগরীর উন্নয়ণ কাজ আমি চালিয়ে যাব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here