নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সোনারগাঁ প্রতিনিধি: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় ছাত্রলীগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ও এক সাংসদের ছবি ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা। এ সময় তাদের হামলায় ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত দেড় বছর পূর্বে কাঁচপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কার্যালয় নির্মাণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

সম্প্রতি কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাহাবুব পারভেজের সঙ্গে কাঁচপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি নাহিদ মিয়ার ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছিল।

বুধবার দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে মাহাবুব পারভেজ, উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফারুক ওমর, যুবলীগ নেতা সুমন মিয়া, মোখলেছুর রহমান, রাসেদ মিয়া, উজ্জল হোসেন, সুমন মিয়া, বাবুল হোসেনসহ অর্ধ শত লোক একত্রিত হয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৫নং ওয়ার্ডের অফিস কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এসময় কার্যালয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। তাদের হামলায় ছাত্রলীগের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি নাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় হোসেন, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় হোসেন, কাঁচপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা হাসান মিয়া, জনি হোসেন, রাব্বি মিয়া, রিপন হোসেন, মেহেদী হাসান সহ কমপক্ষে ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শত শত নেতা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সমর্থ হয়।
আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসীরা।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান রাসেদ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ বলেন, স্থানীয় যুবলীগের কতিপয় নেতারা যে ভাবে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছবি ও অফিস কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের আহত করেছে এতে যে কোন সময়ের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাবুব পারভেজ ও ফারুক ওমর বলেন, সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে জোর পূর্বক জায়গা দখল করে অবৈধ ভাবে দোকানপাট বসায় কতিপয় ছাত্রলীগ নামধারীরা। আমরা তাদের এতে বাধা দেই। তারা বলেন, আমরা ছাত্রলীগের অফিস কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছবি ভাঙচুর ও হামলা সঙ্গে জড়িত নই।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোর্শেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here