নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নরায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ২৬ সদস্যের কমিটি ঘোষনা হলেও এখনও ২৬ জনকে নিয়ে এক টেবিলে বসতে পারেননি সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সেক্রেটারী এটিএম কামাল। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সংগঠিত করতে কমিটি গঠন হলেও কমিটি ঘোষনার পর থেকে বিভেদের মাত্রা আরো বাড়িয়েছেন কালাম কামালরা-এমনটাই অভিমত তৃণমূলের। এবং ২৬টি কাঠি এক করে আটি বাঁধার পরিবর্তে গত ছয় মাসে তারা কাঠি ভাঙ্গার খেলায় মত্ত হয়ে উঠেছেন, যার ভয়ঙ্কর প্রভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুদে আশুলে মাশুল দিতে হবে বলে আশংকা তৃণমূলের।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ২৬ জনের অংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সম্মেলন ছাড়া কমিটি ঘোষনার কারনে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিলো এই কমিটি নিয়ে। অনেক ত্যাগী নেতাদেও এই কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি বরং সারা বছর রাজপথে অনুপস্থিত এবং সরকারী দলের অনেক দালালকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করার গুঞ্জণ শুরু থেকেই পিছু লাগে নতুন কমিটির। সাবে এমপি এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষনা হওয়া কমিটি প্রথম থেকেই হাটতে থাকে উল্টো পথে। চোখের সামনে ডিআইটির দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হয়ে গেলেও তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। সেই সাথে গুটিয়ে ফেলেন মহানগর বিএনপিকে। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের পরিবর্তে এড. আবুল কালামের পাঁচতলায় আবদ্ধ হয়ে পরে সংগঠনের কার্যক্রম। ফলে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে তৃণমূলে।

শুধুমাত্র সংগঠনকে গৃহবন্দি করেই ক্ষান্ত হননি কালাম কামালরা। দলের সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন এড. আবুল কালাম। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সাখাওয়াতের নাম চলে আসায় কালাম-কালামের এই ষড়যন্ত্র। সাখাওয়াতকে ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা পাকনা টিপুকে ব্যবহার কওে একের পর এক আপ প্রচার চালাতে থাকেন।

এমনকি বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিতে সাখাওয়াত বন্দরে যাওয়ার পথে কালাম বাহিনী দিয়ে সাখাওয়াতের গাড়িতে হামলা পর্যন্ত চালানো হয়। যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান অনেক সিনিয়র নেতা। অপরদিকে সরকারী দলের দালাল হিসেবে খ্যাত আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকুকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়, যা মেনে নিতে পারেননি অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সরকারী দলের চামচামী করা মুকুল শকুকে যখন দল থেকে বহিস্কারের দাবী আসে, তখন তাদের রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কালাম কামালরা।

দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এই দুই নেতা। আংশিক কমিটিকে পূর্ণ রূপ দেওয়ার পরিবর্তে এখনও পর্যন্ত ছাব্বিশ জনকে এক ছাতার নীচে আনতে পারেননি তারা। তার বদলে দলে সৃষ্টি করেছেন ভাঙ্গনের সুর। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি’র জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে ভরাডুবির আশংকা করছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর এর জন্য তারা দায়ী করছেন কালাম কামালের স্বেচ্ছাচারিতাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here