নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: এখনো আইনশৃংখলা বাহিনীর সেই স্নাইপারের গুলির ক্ষত লেগে আছে শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত জঙ্গিদের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটিতে। অজ¯্র গুলির ছিদ্র এখনো স্পষ্ট ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে দরজার মাঝে। কিন্তু রবিবার (২৭ আগষ্ট) সেই জঙ্গি নিহতের এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সেই ফ্ল্যাটটিতে আসেনি কোন ভাড়াটিয়া।
শনিবার (২৬ আগষ্ট) দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পাইকপাড়া বড় মসজিদ সংলগ্ন হাজী নূর উদ্দিন এর বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেয়া যায়, ওই বাড়ির তৃতীয় তলার দুইটি কক্ষ এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দুটি কক্ষের দরজায় দেখা যায় অসংখ্য গুলির চিহ্ন। বাড়িতে প্রবেশ করে দেখা যায় ওই বাড়ির পাশে টিনসেড কয়েকটি ঘরে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছেন। পাশাপাশি তিনতলা ওই ভবনের নীচতলা, দোতলা এবং তিনতলার জঙ্গিদের রুমের পূর্বে পাশের একটি ফ্ল্যাটে একটি ছোট পারিবার বসবাস করছে। শুধুমাত্র জঙ্গিদের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি এখনও তালাবদ্ধ রয়েছে।

প্রথমেই বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দুটি ছোট শিশু এসে এই প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কাকে চান?’ জানতে চাইলে বাড়ির মালিক কোন ফ্ল্যাটে থাকেন উত্তরে শিশু দুটি বলেন, ‘দোতলায় থাকেন আসেন আমাদের সাথে।’

এরপর দরজা নক করতেই একজন তরুনী এসে জানতে চান কাকে চাইছেন। বাড়ির মালিক বাসায় আছি কিনা প্রশ্ন কললে ওই তরুনী জানান বাড়ির মালিক হাজী নূর উদ্দিন সাহেব আমার বড় বোনের স্বামী তিনি আমার দুলা ভাই। আমার নাম তানিয়া আক্তার। আমার দুলা ভাই আর বড় বোন হজ্ব করতে বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন।

জঙ্গি নেতা তামিম সহ আরো দুইজন যে কক্ষ দুটিতে নিহত হয়েছিলেন কক্ষ দুটি এখনও তালাবদ্ধ কেন জানতে চাইলে তানিয়া আক্তার জানান, ‘ঘটনার পর পুলিশ এসে ঘরের ভেতরে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে ঘরটি তালাবদ্ধ করে দিয়ে গেছে এবং বলেছে এই কক্ষদুটি খুলতে কোর্টের অনুমতি লাগবে। দুটি রুম বাবদ তার দুলা ভাই প্রতিমাসে ৭ হাজার করে ১৪ হাজার টাকা ভাড়া পেতেন। বর্তমানে ওই বাড়িতে থাকতে তাদের কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারাও এখানে ভাড়া নিয়ে থাকতে কোন প্রকার সমস্যা মনে করছেন না বলে সে জানায়।’

তানিয়া আক্তার এ সময় আরো বলেন, ‘যা হবার তা তো হয়েই গেছে, অতীত নিয়ে আর ভেবে লাভ কি।’

পাইকপাড়া বড় কবরস্থান প্রধান গেইট সংলগ্ন চা দোকানী তারা মিয়া (ছদ্দ নাম) জানান, ‘সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনা আজও আমার মনে পরে। ভোর ৪টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ভাবে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল, মনে হচ্ছিল আবারও বুঝি ৭১ সালের সেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সূর্য উঠার সাথে সাথেই বৃষ্টির মত গুলির শব্দে কম্পিত হয়েছিল পাইকপাড়া এলাকা। সেদিন এই এলাকার ঘর বাড়ির লোকজন ভয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল আর দোকান পাট ছিল একেবারে বন্ধ। আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় আর কখনো ঘটুক।’

উল্লেখ্য,গত বছর ২০১৬ সালের ২৭ শে আগষ্ট শহরের পাইকপাড়াস্থ এই দেওয়ান ভিলায় অবস্থিত জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭’ অভিযান চালালে ঢাকার গুলশানের হলি অর্টিজান রেস্তোরায় জঙ্গি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here