নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় হকার্সলীগের সভাপতি পরিচয়দানকারী ও দেওয়ানবাগীর শিষ্য বহু অপকর্মের হোতা বহিরাগত কেয়ারটেকার লেয়াকত হোসেন খান রনি সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ৫২ লাখ টাকা ও ২৪ শতাংশ জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টুর বাড়ীর কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালনকারী রনি প্রতারনা করে কৌশলে ৫২ লাখ টাকা আতœসাত ও বিভিন্ন প্রতারনার অপরাধে দায়িত্বচ্যুৎ হয়। প্রতারক মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলাও করে জমির মালিক আবদুল আউয়াল মিন্টু। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে প্রতারক রনি এক মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করেও সুবিধা করতে না পেরে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কূট-কৌশল শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসষ্ট্যান্ড এরাকায় খোর্দ্দঘোষপাড়া মৌজায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বিগত ১৯৯৬ সালে ৯৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে। জমিতে সমান হারে আরো দু,জন অংশিদার রয়েছে। ওই জমি ক্রয়করার পর থেকেই দেখভাল করার জন্য কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে লেয়াকত হোসেন রনিকে। জমির মালিক মিন্টুর টাকায় রনি একটি গরুর খামার ও কিছু দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দেয়। জমির মালিক মিন্টু বিদেশ থাকা অবস্থায় কেয়ারটেকার রনি জমি রেজিষ্ট্রি ও নানা অজুহাতে কয়েক দফায় ৫২ লাখ টাকা আদায় করে মিন্টুর কাজ থেকে। খামার করার আগে কথা দিয়েছিল নিয়মিত গরুর দূধ মিন্টুর বাসায় পৌছে দিবে রনি। কিন্তু একটানা ১৫ বছর ধরে ১ ফুটা দূধ মিন্টুর বাসায় দেয়নি প্রতারক রনি। মালিককে নয় ছয় বুঝিয়ে গরুর দূত বিক্রি ও দোকান পাটের আদায়কৃত ভাড়ার টাকা রনি নিজেই পকেটস্থ করে। তাছাড়া মালিককে না জানিয়ে দোকানদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহন করে। পরের টাকার পোদ্দার বনে গিয়ে প্রতারক রনি সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকার বাসিন্দা চিটাগাংরোডস্থ হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের মালিক পদহীন আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ হবুলের সাথে হাত মিলিয়ে শুরু করে ভন্ডাবী। হীরাঝিলে গড়ে তুলে দেওয়ানবাগীর আস্তানা। রনি বনে যায় দেওয়ানবাগীর শিষ্য ও হবুলের অন্যতম চামচা।

এদিকে দীর্ঘ ২১ বছরেও জমির মালিক আবদুল আউয়াল মিন্টু রনির কাছ থেকে এক পয়সাও লাভ না পাওয়ায় গোপনে তার কর্মকান্ডের প্রতি নজরধারী শুরু করেন। বছর বছর গাভীর যে বাচ্চা হতো তার হিসেব না দিয়েও বড় হওয়ার পর রনি বিক্রি করে দেওয়ার সত্যতা,দূধ বিক্রির সত্যতা, দোকান ভাড়া ও অগ্রিম গ্রহন করার সত্যতা পেয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু কিছুদিন আগে প্রতারক লেয়াকত হোসেন রনিকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়। পাশাপাশি প্রতারনা করে নগদ ৫২ লাখ টাকা আদায় করার অপরাধে রনির বিরুদ্ধে মামলা করেন মিন্টু। নিজরে পক্ষে ওই জমি,খামার ও দোকানপাট দেখভাল করা সম্ভন নয় বিধায় আবদুল আউয়াল মিন্টু দেখভাল করার দায়িত্ব দেয় নাসিক ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ ইকবাল হোসেনকে।

কিন্তু ইকবাল হোসেনের পক্ষে গরু লালন পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি আবদুল আউয়াল মিন্টুকে অনুরোধ করেন গরুগুলো হয় বিক্রি করে দিতে নয়ত অন্যত্র নিয়ে যেতে। কাউন্সিলর ইকবালের অনুরোধে মিন্টু প্রথম দাফে ৪ টি গুরু খামার থেকে নিয়ে নেয়। আবদুল আউয়াল মিন্টুর গরুকে বিতারিত কেয়ারটেকার প্রতারক রনি নিজের গরু দাবি করে অপপ্রচার চালিয়েছে কাউন্সিলর ইকবাল তার গরু লুট করেছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, কাউন্সিলর ইকবাল জমি, খামার ও দোকানপাট দেখভালের দায়িত্ব গ্রহন করায়,বিতারিত সাবেক কেয়ারটেকার লেয়াকত হোসেন রনি ইকবালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

অভিযোগ জানা গেছে, প্রতারক লেয়াকত হোসেন রনি নিজেকে কেন্দ্রীয় হকার্সলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, মৌচাক, সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় ফুটপাথ বাণিজ্য করার ফন্দি ফিকির করছে আলোচিত ৭ হত্যা কান্ডের পর থেকে। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু,পাশের ফুটপাথ নিজের নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা তাকে সে সুযোগ দেয়নি। তবে প্রতারক রনি এখনো হাল ছাড়েনি। তার কর্ম তৎপরতায় তাই পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানায় ফুটপাথ ব্যবসায়ীরা। প্রশ্ন উঠেছে, লেয়াকত হোসেন রনি কেন্দ্রীয় হকার্সলীগের সভাপতি হলে সারাক্ষণ সিদ্ধিরগঞ্জে পড়ে থাকেন কেন। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় তার এক খন্ড জমি কিংবা ঘর-বাড়ী নেই। সে কেন্দ্রীয় হকার্সলীগের সভাপতি কিনা তাউ সন্দেহেজনক। হাবিবুল্লাহ হবুলের ছত্রছায়ায় থেকে রনি সিদ্ধিরগঞ্জের কিছু অংশে দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে। সে যথই লাফা লাফি করুক তাকে বহিরাগত হিসেবে মূল্যায়ন করছে স্থানীয়রা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here