নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অত:পর এনায়েতনগর ইউনিয়ন বাসীকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এবার সরকারী খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিজেই মাঠে নামলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের প্রভাবশালী এমপি আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।
বুধবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন খাল পরিদর্শনে আসেন তিনি।

তারপূর্বে সরকারী খাল দখল করে বালু ভরাটকারী আব্দুস সালামের ছোট ভাই বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পক্ষে ঘটনাস্থলে বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান এসে এনায়েত নগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের কাছে খালের দখলদারিত্বের ব্যাপারে জেনে কাগজ পত্র চান। আগামী রবিবারের মধ্যে তাকে কাগজপত্র দেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনকে আব্দুস সালামের জায়গায় উচ্ছেদ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।


কিন্তু পরবর্তীতে শামীম ওসমান এখানে আসার পর যখন সেলিম ওসমান তাকে উচ্ছেদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত করেন, তখন শামীম ওসমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কেউ খাল দখল করে ব্যবসা করবে আর জলাবদ্ধতার কারনে আমার জনগণ দূর্ভোগের ফলে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাকে গালাগাল করবে, সেটা আমি মেনে নিব না। যদি সরকারী খালে কারো অবৈধ স্থাপনা থাকে তাহলে সে যত বড় ব্যাক্তিই হউক না কেন, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা যাবে না।

তখন সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জনগণ যখন সরকারী খাল দখলমুক্ত করার দাবীতে শ্লোগান দিতে থাকলে সেলিম ওসমানও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এরপর দুপুরে ভেঁকু এনে শামীম ওসমান নিজে বিসিক পুল এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বীণা, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ শাহ্ মো: মঞ্জুর কাদেরকে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালু পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এনায়েতনগর বাসীকে জলাবদ্ধ মুক্ত করার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি শামীম ওসমান এও বলেন, যদি সরকারী কাজে বিএনপি পরিচয় দিয়ে কেউ বাঁধা দিতে আসে, তাহলে তাকে এক কাপ চা পান করিয়ে বিদায় দিয়ে দিবেন। আর যদি আওয়ামীলীগ বা শ্রমিক লীগের পরিচয়ে কেউ বাঁধা দিতে আসেন, তাহলে তাকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করবেন।

ঠিক তার পরক্ষনেই উচ্ছেদ অভিযানের সময় কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড সাঁটানো একটি কার্যালয়ের শ্রমিকলীগ নামধারী চাঁদাবাজ নূর হোসেন ফকির সরকারী কাজে বাঁধা দিতে আসলে তাকে স্থানীয় শ্রমিকরা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বীণা জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কারনে সরকারী খাল পুনরুদ্ধারের ফলে এনায়েত নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলেিগর সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, শহর যুবলীগ সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা যুবলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল হক, সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নান, এনায়েতনগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান-১ সালাউদ্দিন আহম্মেদ, ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন, জাকির হোসেন, মহিলা ইউপি সদস্য রোজিনা আক্তার, সাজেদা বেগম, বৃহত্তর মাসদাইর আওয়ামীলীগ নেতা শ্রী রঞ্জিত মন্ডল, যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মিজান, লাভলু প্রমুখ।

জানাগেছে, সদর উপজেলাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়ন এলাকায় ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন থেকে শুরু হওয়া এই খাল শাসনগাঁও হয়ে কাশিপুর বুড়িগঙ্গা নদীতে মিশেছে। এক সময় বড় বড় নৌকা চলাচল করত এই খালে। কিন্তু কালের বিবর্তনে, খালটি বেদখল হয়ে যাওয়ায় এখন জরাজীর্ণ। কাইল্যানী খালসহ শাখা খালগুলো দখল করে অবৈধ অর্ধ-শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিকেএমইএ’র প্রথম সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বড় ভাই আব্দুস সালাম তাঁর মালিকানাধীন জমি ভরাটের সময় সরকারী খালের পানি নিস্কাশনের অংশটুকুর ভরাট করে ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা-আবর্জনা জমে মাসদাইর, বিসিক শাসনগাঁও,ফাজিলপুরসহ এনায়েতনগর ইউনিয়নরে বেশীরভাগ স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্প মালিকসহ প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে খাল দখল করায় পানি বুড়িগঙ্গায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ কয়েক লাখ শ্রমিককে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here