নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের একেএম শামীম ওসমানের একের পর এক উন্নয়ন কর্মকান্ডে এই আসনে এমপি হওয়ার হওয়ার দিবাস্বপ্ন আস্তে আস্তে ভেস্তে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের, তার বদলে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হওয়ার মিশনে নেমেছেন তিনি-পলাশ এবং তার অনুসারীদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটাই প্রতিয়মান হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি পলাশ অনুসারীদের এ জাতীয় প্রচারনার কারনেই এমনটা মনে হয়েছে তাদের।

সূত্রে প্রকাশ, গত প্রায় এক মাস আগ থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও বর্তমান কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশের পাশাপাশি দাঁড়ানো একটি ছবি ‘সাবেক, বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শিরোনামে ফেসবুকে আপলোড করছে পলাশের ডান হাত হিসেবে খ্যাত শ্রমিক নেতা শাহাদাত হোসেন সেন্টুসহ পলাশ অনুসারীরা।

যারা এতোদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফেসবুকে পলাশের পক্ষে প্রচারনা চালিয়েছে, তাদের হঠাৎ করে সেখান থেকে সরে এসে শ্রমিকলীগের ভবিষ্যত সভাপতি হিসেবে কাউসার আহমেদে পলাশের প্রচারনা চালানোয় গুঞ্জণ শুরু হয়েছে চারদিকে। সকলের মনে কৌতুহল, তবে কি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের দুর্দান্ড প্রতাপে এমপি হওয়ার স্বপ্ন থেকে লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন পলাশ আর বদলে হাত বাড়িয়েছেন জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি পদের দিকে!

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে গত দুটি নির্বাচনে আওয়ামীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন শ্রমিক নেতা পলাশ। তারই ধারাবাহিতায় এবারো এই আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষনা দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গন মাধ্যমে চলছিলো পলাশের পক্ষে প্রচারনা। কিন্তু প্রচারনার পাশাপাশি এমপি পদে মনোনয়ন পেতে জনগনের দোড়গোড়ায় যে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌছে দেয়ার কথা, সে বিষয়ে শামীম ওসমানের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে পরেছেন পলাশ। সর্বশেষ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর প্রধাণ সমস্যা ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শামীম ওসমানের প্রচেষ্টার পাশাপাশি নিজ এলাকাবাসীর দু:খ দুর্দশায় পাশে না থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরনের নামে বিমানে করে নিজ দলবলসহ টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে পিকনিক ভ্রমনের ফটোসেশনে সাধারণ মানুষের মন থেকে একেবারেই মুছে গেছে পলাশের নাম। আর তাই এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়ে জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি হওয়ার মিশনে নেমে পরেছেন পলাশ।

নারায়ণগঞ্জ শ্রমিকলীগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়া স্বত্বেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বা মহানগর শ্রমিকলীগের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেন না কাউসার আহমেদ পলাশ। পরিবর্তে নিজে আলাদাভাবে নিজস্ব লোকজন নিয়ে জাতীয় বা দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক শ্রমিকলীগ নেতা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, কাউসার আহমেদ পলাশ নারায়ণগঞ্জ শ্রমিকলীগকে কার্যত দ্বিখন্ডিত করে রেখেছেন। নিজের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য মূলধারার বিপরীতে নিজস্ব একটি পরিমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। একমাত্র পলাশের কারনেই নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় কমিটির ছোট পদে থেকেই পলাশের যে অসাধারন হয়ে উঠার চেষ্টা, সভাপতি হয়ে গেলেতো তার দাপটে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে দিতে হবে।

জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি হওয়ার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে কাউসার আহমেদ পলাশ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, আপাতত ইচ্ছে নেই।

জেলা কিংবা মহানগর শ্রমিকলীগের অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়া বিষয়ে পলাশ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, আমি জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি। ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটি আর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির একই ষ্টেটাস। ফতুল্লার মতো সিদ্ধিগঞ্জ ও রূপগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটিরও একই ষ্টেটাস। এ তিনটি আঞ্চলিক কমিটি জেলা কমিটির অন্তর্ভূক্ত নয়। তবে আগে আমি জেলা শ্রমিকলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু এখন ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটি ও জেলা কমিটির অনুষ্ঠান একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হিসেবে আমাকে ফতুল্লার পোগ্রামে এটেন্ড করতে হয়। তাই জেলা কমিটির অনুষ্ঠানে যাওয়া হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here