নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দদের জোড়ালো দাবী থাকলেও শেষতক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনের মধ্যে ২টি আসন জাতীয় পার্টিকেই পুনরায় ছাড় দেয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে।

যেই কারনে, জাতীয় পার্টির অধীনে থাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনকে বাদ দিয়েই বাকী তিনটি আসনে ইতিমধ্যেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। যাদের প্রত্যেকেই উক্ত তিনটি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তকরনের লক্ষ্যে আসন ভিত্তিক একাধিক জরিপ করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, বেসরকারী গবেষণা সংস্থা, দলীয় বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে জরিপগুলো চালানো হয়েছে। সব জরিপের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমেই নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন এই তিনটি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে শুধু তাই নয়, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা এই তিন জন সাংসদকে ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড থেকে মনোনয়নের বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় জণসংযোগ করতেও বলা হয়েছে।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসন থাকলেও দু’টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়া অপেক্ষমান রাখা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের মাঝে নানা প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে। কেননা, দীর্ঘদিন থেকেই যে দাবী তোলা হচ্ছিল, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৫টি আসনেই ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রার্থী দেয়া হয়ে থাকে।

যার ফলে গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার আশ^াস দিয়ে সকল আসনেই দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি আহ্বান জানানোর পর নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা বেশ তৎপর হয়ে উঠে।

তারপরেও ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে চূড়ান্ত হলেও দু’টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণে কালক্ষেপন কেন- এমন প্রশ্নই এখন উঠেছে তৃণমূলে। তবে তাতে কেউ এখনো হাল ছাড়েন নি, আগামী নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে এখনো আশাবাদী আছেন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

যেই কারনে, গত ২৭ অক্টোবর শহরের সৈয়দপুর এলাকায় সদর থানা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল আগামী নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রার্থী দেয়ার জোড় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নারায়নগঞ্জের ২টি আসনকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়েই আপাদত ৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামীলীগ। কারন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তাই পুনরায় ক্ষমতায় আসার প্রয়াসে আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টির জোট বদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেইলক্ষ্যে আওয়ামীলীগের কাছে ইতিমধ্যেই ১শ’টি আসনের প্রার্থী তালিকা তৈরী করে জমা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। যেখানে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার নাম রয়েছে।’

আর তাই শেষতক যদি জাতীয় পার্টিকেই পুনরায় বাকী ২টি আসন ছাড় দিতে হয় তাহলে ৫টি নয়, চূড়ান্ত হওয়া ৩টি আসনেই কেবল আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকবে বলে নিশ্চিত ধারনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

কারন গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর দেয়া বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেননা, কাজী জাফর উল্লাহ বলেছেন, ‘বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু আসনে প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এরপর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকী আসন গুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে।’

আর সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ হলে তাদের ভাগ্যেই জুটবে নারায়ণগঞ্জ জেলার দু’টি সংসদীয় আসন বলে দাবী করেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনেই ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রার্থী দেয়ার জোর দাবী জানিয়ে আসছেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালামসহ সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here