নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জ¦রে কাঁপছে সারা দেশ অথচ মামলা হামলায় আবারো ঘরছাড়া হয়ে পরেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিতর্কিত জমিয়তের মুফতি মনির হোাইন কাশেমীকে মনোনয়ন দেয়াকেই এবারের ফেরারী জীবনের কারন হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা। মামলা হামলায় নেতাকর্মীরা পালিয়ে থাকায় প্রভাব পরছে ধানের শীষের প্রচারনায় আর এর মাশুল নির্বাচনের ফলাফলে গুণতে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

সূত্রে প্রকাশ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা বেশীরভাগই হেফাজতে ইসলামের সাথে জড়িত। আবার নারায়ণগঞ্জ জমিয়তের সাথে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাথে রয়েছে আন্তরিক সম্পর্ক।

জমিয়তের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে নিয়মিতই উপস্থিত থাকতেন স্থানীয় জামায়াতের আমীরসহ সিনিয়র নেতারা। আর এদুটি দলই বিএনপি’র ২০ দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় বারবার এদের কারনে মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের, হতে হয়েছে ঘরছাড়া।

জানা গেছে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দেশব্যাপী বিএনপি জোটের আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তেমন কোন উচ্ছৃঙ্খলা করেনি তবে পেট্রোল বোমা দিয়ে গাড়ি পোড়ানোসহ ধ্বংসাত্মক কাজগুলোতে লিপ্ত ছিলো জায়াত শিবিরের ছেলেরা। নারায়ণগঞ্জে গাড়ি পোড়ানোর সময়ে হাতেনাতে ধরা পরেছে জামায়াত শিবিরের কর্মী। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীরা কোথাও গাড়ি ভেঙ্গেছে বা পুড়িয়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু তারপরও সে সময়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোতে আসামী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের। একের পর এক মামলা হামলায় তখনই বিপর্যয়ের শুরু, তখন থেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাযাবর জীবন যাপন করতে হয়েছে তাদের। অথচ নিষিদ্ধ সংগঠনের মতো গায়েব থেকে ঠিকই বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে জামায়াত শিবিরে নেতাকর্মীরা। জামায়াতের তখনকার কৃতকর্মের ফল এখনও ভোগ করতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মতো জমিয়তে ইসলামের নেতাকমীরাও অনেক ভুগিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে। হেফাজত ইসলামের সাথে মিলে নারায়ণগঞ্জ জমিয়তের নেতাকর্মীরা ৫ মে শাপলা ট্রাজেডিতে ছিলো সক্রিয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইলে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের নেতৃত্বে ছিলেন জমিয়তের নেতাকর্মীরা। তখনকার হামলা ভাংচুর সংঘর্ষের কোথাও ছিলো না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি অথচ সে সময়ের মামলাগুলোতেও হেফাজতের সাথে আসামী করা হয়েছিলো অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীকে। সে মামলায় এখনো দিনের পর দিন হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেবারও ঘর ছাড়তে হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকমীদের, জেল খাটতে হয়েছে অনেকের। জমিয়তের কারনে ভোগান্তির শিকার হয়েছে নিরপরাধ বিএনপি কর্মী সমর্থকরাও।

সর্বশেষ জমিয়তের প্রভাবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ধানের শীষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিগত দিনের মামলা হামলাগুলোতে জামিন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পরার মুহুর্তেই তাদের উপর আবারো চেপে বসছে মামলার বোঝা। নির্বাচনের প্রচারনা বাদ দিয়ে তাদের এখন পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের গনসংযোগ বিঘিœত হচ্ছে আর এর প্রভাবে নারায়ণগঞ্জের আসনগুলোতে ধানের শীষের বিজয় কঠিন হয়ে পরছে। আর এর সব কিছুর মুলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জমিয়তের মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীর মনোনয়নকেই দুষছেন ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা। সেই সাথে ঠিকমতো গনসংযোগের অভাবে ধানের শীষের বিজয় হাতছাড়া হলে বিএনপিকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও আশংকা তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here