নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কাশীপুরে আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় এবার বাদী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নিহত মিল্টনের পরিবার। পাশাপাশি হত্যার নির্দেশদাতা মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার ও তার ভাই হাসান আহাম্মেদসহ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিচার ও ফাঁসির দাবীও জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে কাশীপুরে জোড়া খুনে জড়িতদের গ্রেফতার, বিচার ও ফাঁসির দাবীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয়।

কিন্তু যখন খুন হয়েছে তখন কেন মামলার বাদী হয়ে মজিদ-হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেননি কেন এবং এখন বাদী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছেনই বা কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মিল্টনের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মিল্টনের স্ত্রী মাজেদা বেগম উপস্থিত থাকলেও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তার খালাতো ভাই সাইফুল্লাহ তারেক, যিনি কিনা সুদুর যশোরের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা মিল্টনের অসৎ কর্মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মিল্টন খারাপ পথ ছেড়ে ভালো হয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেটা হতে দেয়নি। গত ১২ অক্টোবর রাতে কাশীপুরে এম এ মজিদ ও হাসান আহমেদের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম বেপারী, বাপ্পি ও রবিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মিল্টন ও তার ম্যানেজার পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর খুনীরা আলামত নষ্ট করার জন্য ঘটনাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ’

সংবাদ সম্মেলনে মিল্টনের পরিবার দাবী করেন, ‘জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একজন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, বিএনপি নেতা মজিদের নির্দেশে মিল্টন ও পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ২৬ দিন পার হলেও পুলিশ মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হত্যাকান্ডের কারন হিসেবে মিল্টনের স্ত্রী বলেন, ‘মিল্টন ‘ছায়াবৃত্ত শ্রমজীবি সমবায় সমিতি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের তিনি ঋণ দিয়ে আসছিলেন। তেমনি ঋণ গ্রহীতা রাকিবের কাছে ১০ লাখ টাকা, রায়হানের কাছে ৭ এবং দুলালের কাছে ৮ লাখ টাকা পাওনা ছিল মিল্টন। মূলত এই টাকার জন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে।’

সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে অভিযোগ করে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহত মিল্টনের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মিল্টনের তিন মেয়ে মেহেরুন আক্তার, মাইসা, মরিয়ম ও আরেক খালাতো ভাই মোশারফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর রাতে ফতুল্লা মডেল থানাধীন কাশীপুর হোসাইনী নগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জের ধরে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মিল্টন ও তার ম্যানেজার পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্থানীয় আরেক সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর বেপারীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে লাশ নিশ্চিহেৃর লক্ষ্যে হত্যাকান্ডের পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হত্যাকান্ডস্থল স্থানীয় রাজীবের রিক্সার গ্যারেজে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু হত্যাকান্ডের দু’দিন অতিবাহিত হলেও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করতে অনীহা প্রকাশ করায় ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মোজাহার বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে এযাবত ৫ জন আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তন্মধ্যে একজন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। যেখানে আসামী উল্লেখ করেছে, বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার ও হাসানের নির্দেশেই কাশীপুরে জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here