নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারী দল আওয়ামীলীগ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দমনে মেতে উঠেছে বলে মনে করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। আর এ কারনেই নারায়ণগঞ্জের রাজপথে সরকারী বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম বন্ধ করে দিতে কৌশলে রাজপথের বলিষ্ঠ নেতাদের একের পর হামলা মামলা দিয়ে নিস্ক্রিয় করে দিতে চাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রাজপথের সংগ্রামী নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এরই কিছুদিন আগে তার ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জের আন্দোলন সংগ্রামের আরেক সেনানী মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে হকার ইস্যুতে জড়িয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে যুবদলের আন্দোলনও থামিয়ে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’কে অচল করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে তৈমূর পরিবারকে প্রথম টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে বলে আশংকা তৃণমূলের।

তৃণমূল সূত্রে যায়, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নিজেদের অনেকটাই গৃহবন্দি করে ফেলেন। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সরকারী দলের হামলা মামলার শিকার হয়ে বেশীরভাগ নেতাকর্মীই আন্দোলন সংগ্রাম থেকে হাত পা গুটিয়ে নেন। তাছাড়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক নেতা আন্দোলন সংগ্রামে না থেকেও বহাল তবিয়তে রাজনীতি করে যাচ্ছেন, এমনকি জেলা মহানগর কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদও পাচ্ছেন। কিন্তু দল অন্ত:প্রাণ কিছু ত্যাগী নেতাকর্মী এখনও রাজপথে তাদের প্রতিবাদ অব্যহত রেখেছেন, যার ফলশ্রæতিতে মামলা হামলাও হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে একের পর এক। বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার তেমনই একজন রাজপথের পোড় খাওয়া এক নেতা। আর এ কারনেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে আঘাত করা হলে প্রথম আঘাতটা আসে তার উপর। এবারেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি, নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া থেকে বার নির্বাচনের প্রচারনাকালে টেনে হিচড়ে থাকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।

সূত্র মতে, এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে গ্রেফতারের কিছুদিন আগে তারই ছোট ভাই রাজপথের পরীÿিত আরেক যোদ্ধা মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে হকার ইস্যুতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামকে ¯Íব্ধ করে দিতেই হকার ইস্যুতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ খোরশেদকে জড়ানো হচ্ছে বলে ÿোভ বিএনপিতে। গৃহবন্দি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রতিবাদী মুখ খোরশেদকে আটকে দিতে পারলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র আন্দোলন মুখ থুবরে পরবে। খোরশেদ হামলা মামলাকে উপেÿা করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে প্রতিবাদের ঝড় তুলে নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলন সংগ্রামের আইকনে পরিনত হন। যে কোন দলীয় কিংবা জাতীয় কর্মসূচিতে বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে রাজপথে তার বিচরণ অব্যহত রাখেন। এর ফলে একের পর এক রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলার শিকার হন খোরশেদ। এমনকি তৃতীয় দফায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ঢাকা থেকে শপথ গ্রহনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাপথে বিÿোভকালে গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু কোনভাবেই খোরশেদকে থামানো যাচ্ছিলো না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক বাঘা বাঘা নেতা এ সময়ে বিড়ালের মতো গর্তে ঢুকে গেলেও খোরশেদ রাজপথের দখল ছাড়েননি এক মুহুর্তের জন্য। আর তাই সরকারী দলের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে উঠেন এই যুবদল নেতা।

তৃণমূল মনে করে, নারায়ণগঞ্জে সরকারী দলের বিএনপি দমনের প্রথম টার্গেট তৈমূর পরিবার। এরপর একে একে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রতিবাদী মুখগুলোকে আটকে দিতে পারলে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে আর নেতাকর্মীর দেখা মিলবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here