নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার কারনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দিয়ে সাইবার সন্ত্রাস চালানোর কারনে বিএনপি’র মনোনয়ন দৌড়ে ক্রমেই পিছিয়ে পরছেন সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম-এমনটাই মনে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। ফেসবুকে টিপুর একের পর এক বেফাঁস মন্তব্যে আবুল কালামের ব্যক্তি ইমেজ দুর্বল হয়ে পরছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে কালামের গ্রহনযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। আর তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এড. আবুল কালামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে টিপুর সাইবার সন্ত্রাস থামানোর দাবী জানিয়েছে তৃণমূল।

তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কিত নানা কর্মকান্ডের কারনে বহু বদানামী উপাধিতে বিশেষায়িত হয়ে সর্বশেষ বিএনপির বিষফোঁড়া হিসেবে উপাধি পান তিনি। তাছাড়া যখন যে নেতার আশ্রয়ে থাকেন, তাকে খুশি করতে অপরের চরিত্র হনন করা টিপুর স্বভাবগত ত্রুটি। আর বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের চরিত্র হনন করে বিবৃতি দেয়া আরো সহজ হয়ে গেছে টিপুর জন্য। যা অনেকটাই সাইবার সন্ত্রাসের সামিল। ইদানিং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামকে খুশি করতে কারনে অকারনে ফেসবুকে কারো বিরুদ্ধে বিষেদাগার না করলে টিপুর পেটের ভাত হজমই হয় না। কিন্তু এতে টিপুর কোন সমস্যা না হলেও এর বিরূপ প্রভাব পরছে এড. আবুল কালামের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। কারন ফেসবুকে টিপু যে ভাষা ব্যবহার করছেন অন্যকে ঘায়েল করতে, তা কোন রাজনীতিবীদতো দুরের কথা, সাধারণ মানুষও এটা মেনে নিতে পারছেন। ভদ্রতা ও শালীনতার সকল সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন টিপু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জানান, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। তাছাড়া বিএনপি বাংলাদেশের একটা বৃহৎ দল। এ দলে একই আসনে একাধীক প্রার্থী থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতাকে কোন্দলে পরিনত করছেন টিপু। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এড. আবুল কালামের একটা গ্রহনযোগ্যতা বহু পুরানো। অথচ ইদানিং সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না তিনি। টিপুকে ব্যবহার কওে আবুল কালাম যেভাবে অন্যের চরিত্র হননের খেলায় মেতে উঠেছেন, শেষ পর্যন্ত এই খেলায় কালামকেই পরাজিত হতে হবে। আবুল কালামের ব্যক্তি ইমেজকে পুরোপুরি ধ্বংস কওে দেয়ার জন্য কাজ করছেন টিপু। আর তাই অবিলম্বে টিপুর সাইবার সন্ত্রাস থামানো দরকার আবুল কালামের।

আর তা না হলে এটা তার জন্য বুমেরাং হিসেবে দেখা দেবে এবং তার জন্য দায়ী থাকতে হবে আবুল কালামকেই। একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবীদ হিসেবে আবুল কালামের যে ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে, তা ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে এই টিপুর বেফাঁস মন্তব্যের কারনে এবং প্রতিদ্বন্দিদের থেকে ক্রমান্বয়েই পিছিয়ে পরছেন তিনি। এভাবে চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দরে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন অন্য কেউ নিয়ে গেলেও কালামের কিছুই করার থাকবে না। তাই সময় থাকতেই কালামকে সচেতন হতে হবে রাজনীতির ভাইরাস টিপুর সাইবার সন্ত্রাস থামিয়ে টিপুর সঙ্গ ছাড়তে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here