নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ডিএনডি’র (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের বৃষ্টি মৌসুম এলেই চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খানিক বৃষ্টি হলেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। তাই এবার ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে অতিদ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতার স্থানীভাবে নিরসনের দাবীতে শহরের চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর যৌথ আয়োজনে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে এই দাবী করেন নেতৃবৃন্দরা।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর এই দূর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছে বাঁধ এলাকার প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ। এবারের বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে এখানকার দূর্ভোগ আরও চরম আকার ধারন করেছে। এই এলাকায় রয়েছে রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস শিল্প, টেক্সটাইল, ডাইং, রি-রোলিং মিল, ষ্টীল মিলস সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব কারখানায় কাজ করেন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক। এই এলাকায় গড়ে উঠেছে স্কুল-কলেজ। জলাবদ্ধতায় বসতবাড়ি, শিল্প,দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সহ অনেক কিছুই তলিয়ে গেছে পানিতে। এখনও রাস্তাঘাটে জ্জ ফুট পর্যন্ত পানি রয়েছে। হরি ধান চাষের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে স্বাধীনতার পূর্বে এই ডিএনডি বাঁধ তৈরী করা হয়।

৩২.৮ কিলোমিটার বাঁধের অভ্যন্তরে ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে ২০ লক্ষাধিক মানুষ আবাসিক ও শিল্প এলাকয় পরিনত হয়েছে। কংস নদ, নলখালী খালের মত ৯টি জলাশয় এবং আরো ৯টি শাখা খাল ছিল। এছাড়াও আরও ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিস্কাসন খাল ছিল। সব মিলিয়ে ১৮৬ কিলোমিটার ছিল খালের দৈর্ঘ্য। বর্তমানে এসব খালে বেশীরভাগই দখল ও বিলুপ্ত হয়েছে।

বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারনে খাল দখল-ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় পানি প্রবাহের মাধ্যমগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পানিতে ডুবে যাচ্ছে ঘড়-বাড়ি, রাস্তাঘাট। আর বেশী বৃষ্টিতে তৈরী হচ্ছে কৃত্রিম বন্যার। ২০১৬ সালে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একনেকের বৈঠকে ৫৫৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ববধানে বাস্তবায়নের কথা খাকলোও তার কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

ডিএনডি বাঁধ এলাকায় ২০ লক্ষ পানিবন্দি মানুষের চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষাকল্পে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষে দ্রুত কার্যক্রম চালানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আহবান জানান নেতৃবৃন্দরা।

স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে স্মারকলিপিতে চারটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, অকেজো পাম্পগুলো সচল ও পর্যাপ্ত পাম্প বসিয়ে দ্রুত পানি নিস্কাশন করতে হবে, দখলকৃত খাল-জলাশয় উদ্ধার করতে হবে, ডিএনডি’র সর্বত্র পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তাগুলো সংস্কার করতে হবে এবং একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক কমরেড নিখিল দাস, সিপিবি’র জেলার সাধারন সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, সিপিবি সদস্য বিমল কান্তি দাস, বাসদ সদস্য আবু নাঈম খাঁন, সেলিম মাহমুদ ও এস এম কাদির সহ প্রমূখ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here