নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঈদ সামগ্রী বিতরণের স্লিপ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শহরের ঋষিপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আরাফাতের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর ঈদ সামগ্রী বিতরণের স্লিপ নিতে এসে এই নির্মমতার শিকার হতে হয় রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করা এক সন্তানের জননীকে। ধর্ষিতার আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ধর্ষক আরাফাতকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মকবুল ধর্ষক ও ধর্ষিতা দুইজনকেই ধরে থানায় নিয়ে আসেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুইজনই সদর মডেল থানা হেফাজতে রয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকেই নগরীর পাইকপাড়ায় অবস্থিত আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবুর উদ্যোগে দু:স্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদের চিনি সেমাই নিতে সকাল থেকেই স্লিপ নিয়ে অসহায় মানুষেরা লাইন দিতয়ে দাঁড়িয়ে থাকে স্কুলের মাঠে। এছাড়াও স্লিপ না পাওয়া অনেকে ভীড় করে একটি স্লিপের আশায়। তেমনি স্লিপ প্রত্যাশী একজন শহরের জিমখানা বস্তির নির্মাণ শ্রমিক রকিব হোসেনের ভিক্ষুক স্ত্রীকে একটি স্লিপ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ঋষিপাড়ার নিজ বাসায় নিয়ে যায় লম্পট আরাফাত। বাসায় নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সে। মেয়েটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে লম্পট আরাফাতকে হাতেনাতে ধরে গনপিটুনি দিয়ে পুৃলিশে সোপর্দ করে।


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার শফিকুল ইসলাম ধর্ষিত মেয়েটির বক্তব্যের বরাত দিয়ে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, স্লিপ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষটির মৌখিকভাবে অভিযোগ হয়েছে, কোন লিখিত অভিযোগ এখনো হয়নি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামী গ্রেফতার করা সদর মডেল থানার এসআই মকবুল নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, এলাকাবাসী ধরে আরাফাতকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ হলো, স্লিপ দেওয়ার নাম করে সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে।

অভিযুক্ত আরাফাত ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, মেয়েটির ইচ্ছায়ই তাকে নিজ বাসায় নিয়ে যায় সে টাকার বিনিময়ে। কিন্তু আশেপাশের মানুষ চলে আসায় সে কোন কিছুই করতে পারেনি।

এদিকে লম্পট আরাফাত ওয়ার্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী লোকের ছত্রছায়ায় থাকার কারনে ধর্ষিতার অসহায় পরিবারকে মামলা না করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও খবর রটেছে। তাই বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত করে লম্পট আরাফাতের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর মুঠোফোনে (০১৭১১-৩৭৭৪২৭) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here