নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাব্বী মিয়া এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে জেলার আবাসিক হোটেল, রেষ্ট হাউজ, গেষ্ট হাউজ ও পিকনিক স্পট এবং রিসোর্টসহ নদীতে চলমান নৌকাসমূহে বিভিন্ন অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপসহ বিভিন্ন ধরণের ফৌজদারী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে দিনব্যাপী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত একটানা ১৬ ঘন্টাব্যাপী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রিফাত ফেরদৌস, রোজিনা আক্তার, মো: জাহাঙ্গীর আলম, জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, আসমা সুলতানা নাসরিন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এর সমন্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

এসময় শহরের দ্বিগুবাবুর বাজার এলাকায় অবস্থিত বনরূপা আবাসিক হোটেল থেকে দুইজন মাদকসেবীকে আটক করে ১ বছরের বিনাশ্রম প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। পাশাপাশি হোটেলটি সীলগালা করে দেয়া হয়।

রবিবার (১৬ জুলাই) গনমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাব্বী মিয়া জানান, বরফকল গুদারাঘাট সংলগ্ন চৌরঙ্গী পার্কে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিভিন্ন বয়সের ও বিভিন্ন শ্রেণীর দর্শনার্থীদের দেখতে পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালীন সময়ে সম্পূর্ণ পার্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য একটি সোনাই বিবি জাহাজ নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়। আদালত পুরো জাহাজে তল্লাশি চালায় কিন্তু কোন অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপের চিত্র পরিলক্ষিত হয়নি। এ বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়। যথাঃ স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পড়–য়া কোন ছাত্র/ছাত্রীরা যেন পার্কে প্রবেশ করতে না পারে, দৃষ্টিকটু কোন অসামাজিক কার্যকলাপ যাতে না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা, পার্কে ঢোকার সময় দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া, যাতে কোন প্রকার মাদকদ্রব্য পার্কে প্রবেশ না করে, সমগ্র পার্ক এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা, বিকেলের আগে পার্ক না খোলা এবং নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে পার্ক বন্ধ করে দেয়া অর্থাৎ এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক নিয়মনীতি অনুসরণ করা ইত্যাদি।

আবাসিক হোটেল, রেষ্ট হাউজ ও গেষ্ট হাউজ : নারায়ণগঞ্জ জেলার কালীরবাজার, দিগুবাবুর বাজার, ১নং রেলগেট হতে ২নং রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেলগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে। তম্মধ্যে দিগুবাবুর বাজারে অবস্থিত বনলতা আবাসিক হোটেলে দুইজন ব্যক্তিকে মাদক (ইয়াবা) সেবনরত অবস্থায় ধৃত করা হয়। তাঁদেরকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ (১) এর টেবিল ক্রমিক ৯ (ক) ধারায় ০১ (এক) বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় এবং জব্দকৃত আলামত ধ্বংস করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, নারায়ণগঞ্জকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বাজারের ব্যবসায়ীগণ ভ্রাম্যমান আদালতের নিকট অভিযোগ করেন যে, এই হোটেলে (বনলতা) মাদক সেবনসহ নানা ধরণের অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে উক্ত হোটেল সীলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়।

খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল: খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এলাকাতে ভ্রাম্যমান আদালত টীম প্রবেশ করে। সেখানে কিছু সংখ্যক লোককে হাটতে দেখা যায় যারা ডায়াবেটিস রোগী মর্মে জানা যায় এবং বেশ কয়েকজন স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রীদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রথমবারের মত ক্ষমা করতঃ তাদেরকে সতর্ক করে হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। তাছাড়া হাসপাতাল এলাকার কিছু জায়গা নোংরা ও অপরিষ্কার অবস্থায় দেখা যায়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃক্ষকে হাসপাতাল এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ হাসপাতাল এলাকায় রোগী এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্য কোন লোকজন যাতে প্রবেশ করতে না পারে তা লক্ষ্য রাখার জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর (৫নং গুদারাঘাট) এলাকা: নদীতে চলামান বিভিন্ন ছাউনী নৌকাসমূহে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপ সংঘটিত হয় মর্মে অবগত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালত টীম ৫নং গুদারাঘাট হতে মদনগঞ্জ বসুন্ধরা ফ্যাক্টরী পর্যন্ত এলাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা (ট্রলার) যোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে কোন অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপ চোখে পড়েনি। তবে কিছু কিছু ছাউনী নৌকায় উঠতি বয়সি তরুনদের আড্ডা লক্ষ্য করা যায়। ভ্রাম্যমান আদালত তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদেরকে সতর্ক করে নদী এলাকায় অহেতুক আড্ডা না দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

সায়রা গার্ডেন ও ক্যাসল রিসোর্ট: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলাধীন মদনপুরস্থ সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট ও ক্যাসল-এ ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে। তম্মধ্যে ক্যাসল-এ অভিযানকালে কোন প্রকার অসামাজিক ও আইন বহির্ভূত কার্যকলাপ ভ্রাম্যমান আদালতের নিকট পরিলক্ষিত হয়নি। অপরদিকে সায়রা গার্ডেন রিসোর্টে অভিযান পরিচালনাকালে উক্ত রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বিয়ারক্যান, কনডম, সেক্স ট্যাবলেট, মেয়েদের ব্যবহৃত পোষাক-পরিচ্ছদ, উত্তেজক পানীয়দ্রব্যসহ আনুষাঙ্গিক কিছু অবৈধ জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। কিন্তু কোন খদ্দের ধৃত করা যায়নি। ভ্রাম্যমান আদালত আসার খবর পেয়ে খদ্দেররা পালিয়ে গেছে মর্মে আদালতের নিকট উপলব্ধি হয়। এ ব্যাপারে রিসোর্টের ম্যানেজারের নিকট এন্ট্রিবুক তলব করা হলে তিনি কোন এন্ট্রিবুক দেখাতে পারেননি। রিসোর্টে প্রবেশকারী বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া নেয়া দর্শনার্থীদের নাম ঠিকানা সম্বলিত কোন প্রকার রেজিস্ট্রার তালিকা এবং দর্শনার্থীদের কোন প্রকার তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না মর্মে রিসোর্ট ম্যানেজার জানান। তৎপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান আদালত উক্ত রিসোর্টের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সসহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে আসে এবং রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here