নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক তুষার কান্তি দাশ। গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্য মতে পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে আশ^াস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) গ্রেফতারকৃত তিন আসামী জীবন, নাজমুল ও মনার পক্ষ থেকে জামিন প্রার্থনা করা হলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালতে । আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

মামলার তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক তুষার কান্তি দাশ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি নিজে স্বজন হারিয়েছি, তাই স্বজন হারানোর বেদনা কত গভীর হয় তা আমি জানি। তাই এ হত্যাকান্ডে জড়িত কেউ আমার হাত থেকে রেহাই পাবে না।

তিনি আরো বলেন, সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধাণ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা থাকায় আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আজকেও সারাদিন গরুর হাটে ডিউটি করেছি। তাই তদন্ত শেষ হতে একটু সময় লাগছে। তবে ঈদের পর আমরা শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি। এই মামলার বেশীরভাগ আসামীর ভাড়াটিয়া ঠিকানা হওয়ায় খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে। পলাতক আসামীদের পরিবারের লোকদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এবং সম্ভাব্য সকল আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আসামীদের ধরতে আমাদের এই অভিযান অব্যহত থাকবে।

এ বিষয়ে নিহত গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র’র বাবা শাহাদাত হোসেন শিকদার বলেন, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। তাই পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করছে না।

তিনি আরো বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তবুও মামলা নিতে দেরী করেছে। পোর্ষ্ট মর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে শুভ্রকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত জীবনের কাছ থেকে শুভ্র’র মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া গেছে। এতেই বোঝা যায় এই খুনের সাথে আসামীরা জড়িত। এদেরকে ঠিকমতো জিঞ্জাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) রাতে মাসদাইর নিবাসী শাহাদাত হোসেন শিকদারের বড় ছেলে গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ’র লাশ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সন্দেহভাজন হিসেবে মাসদাইরের নাজমুল, জীবন ও মনাকে গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর দেওয়া পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়ার পর নিহতের পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই তিনজনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) আদালত আসামীদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here