নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরপর দুইবারের নির্বাচিত প্রভাবশালী মেয়র হচ্ছেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। যিনি একই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
তবে আইভী নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হওয়া স্বত্তেও সাম্প্রতিক সময়ে তার দাবী মোতাবেক তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার চেষ্টা হয়েছে দুইবার।

যার মধ্যে একটি ঘটনায় আইভী পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে নাসিকের উদ্যোগে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অপরটির জন্য তাৎক্ষনিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সদর মডেল থানায়। কিন্তু সেই হত্যা চেষ্টার ঘটনার দু’টিরই তদন্ত আদৌ পর্যন্ত শেষ হয় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়রের ঘনিষ্টজনেরা।

জানাগেছে, গত ১৬ জানুয়ারী নগরীতে হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি মেয়র আইভী ও সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়।

এরপর এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারী সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাসিকের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জিএম এ সাত্তার।

এতে এমপি শামীম ওসমানের কর্মী হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৯০০/১০০০ জনকে আসামী করা হয়। আর অভিযোগে অন্যান্য আসামীরা ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন, আওয়ামী লীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ ও যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব।

অভিযোগে বলা হয়েছিল, হকার ইস্যু নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্যই লাঠিসোটা, অস্ত্র নিয়ে মেয়র আইভীর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ করে।

আর এই পরিকল্পিত হত্যা চেষ্টার জন্য মেয়র আইভী এমপি শামীম ওসমানকে দায়ী করেন।

কিন্তু সেই অভিযোগের তদন্ত এখনো অব্যাহত থাকায় থানায় আর মামলা দায়ের হয়নি।

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তার পূর্বে সর্বপ্রথম গত বছরের ২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের জানাযায় যোগদানের প্রাক্কালে যাত্রাপথে বহনকারী জিপের চাকার ছয়টি নাট খুলে যাওয়ার পূর্বেই গাড়ী থেকে নেমে যাওয়ায় অল্পের জন্য তখন প্রাণে বেঁচে যান সিটি মেয়র আইভী।

আর এই গাড়ীর তিনটি নাট আগে থেকেই খোলা থাকায় মেয়র আইভীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করেছিলেন তার ঘনিষ্টজনেরা।

তবে সেই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করতে চাইলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী থানায় কোন অভিযোগ বা সাধারন ডায়েরী না করলেও রহস্য উদঘাটনে নাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আজগরকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কিন্তু আইভীকে বহনকারী গাড়ীর চাকার নাট খুলে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত নাসিকের তদন্ত কমিটি অদ্যবধি তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। তবে তদন্তে এখনো অবদি তেমন তথ্য রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে তদন্ত কমিটি সূত্রে জানাযায়।

এদিকে, মেয়রের গাড়ীর চাকার নাট খুলে যাওয়ার ঘটনায় নাসিকের তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আইভীর পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারন, দূর্ঘটনার কবলে পড়লেও মেয়র আইভী তাৎক্ষনিক আইনানুগ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আগে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেন। ফলে সেই তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মেয়র পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন বলে বিশ^স্ত সূত্র জানায়।

কিন্তু তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও এখনো কেন তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি- এব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আজগর নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘তদন্ত কাজ চলছে।’

উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের জানাযার আগে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজের সরকারী জিপে ঢাকা যাচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। পথে বনানী সিগন্যাল এলাকায় বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে চালক সড়কের পাশে জিপটি থামান। তারপর তিনি গাড়ি থামিয়ে চেক করে দেখতে পান বাম পাশের চাকার ছয়টি নাটের মধ্যে তিনটি নাই। আর যে তিনটি নাট আছে সেটিও খুলে গিয়েছিল।

এরপর এই ঘটনায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এটি নিছক দূর্ঘটনা না হত্যার চেষ্টা সেটা খতিয়ে দেখতে মেয়রের নির্দেশে নাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আজগরকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিটি কর্পোরেশনের সহকারী সচিব আবুল বাশার, মেয়রের ব্যাক্তিগত সহকারী আবুল হোসেন ও সিটি কর্পোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত (যান্ত্রিক) রাশেদ মোল্লা।

গত ১০ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত কাজ শুরু করেন নাসিকের তদন্ত কমিটি।

আর তখন মেয়র আইভী এই দূর্ঘটনায় বিচলিত হয়ে বলেছিলেন,‘ ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন গাড়ীটি চালালেও তার উপর আমার আস্থা আছে। কিন্তু একসঙ্গে একটি চাকার ছয়টি নাট খুলে যাওয়া অস্বাভাবিক। বিষয়টি শঙ্কার।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here