নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মুখে যতই সাহসিকতার বুলি ছাড়–ক না কেন, বাস্তবে পুলিশের চাপেই শেষ হয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল কর্মসূচি। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন নির্ধারণের পর থেকে পুলিশের হামলা মামলার ভয়ে সকল কর্মসূচিই ফটোসেশনে শেষ করতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে। পুলিশের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের সকল কর্মসূচি। এমনকি রাজপথের কর্মসূচি তারা পালন করছেন অলি গলিতে। তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের মুখের কথার সাথে বাস্তবের কোন মিল পাচ্ছেন না তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সূত্রে প্রকাশ, বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর চরাও হয় পুলিশ। এবং এর প্রথম শিকার হন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর একে একে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় একশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

এসব মামলায় আসামী হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বেশীরভাগ নেতাকর্মীই ফেরারী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়। আটককৃত নেতাকর্মীদের কেউ কেউ জামিনে বের হলেও কর্মসূচিতে সক্রিয় হতে ভয় পাচ্ছে। তাই দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অনেকটাই অসহায়ের মতো পাঁচ দশ মিনিটের ফটোসেশন প্যাকেজ করেই বিদায় নেন তারা। অথচ মুখে সব নেতারাই পুলিশের হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করার ঘোষনা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের চাপে পরে সেই ঘোষনা আর বাস্তবায়িত করতে পারেন না তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here