নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরীর শীতলক্ষ্যাস্থ তামাকপট্টী সার্ব্বজনীন দূর্গা পূজা উদযাপন মন্ডপে দিনের আলোতেই বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুবৃর্ত্তরা।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টা থেকে ৮ টার মাঝামাঝি সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

এব্যাপারে তামাকপট্টী সার্ব্বজনীন দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌতম সাহা জানান, ‘শনিবার সকাল ৮ টায় পূজা মন্ডপে তিনি এসে দেখেন কে বা কাহারা দেবী দূর্গার হাত, মহিষাসুরের হাত, বাহনসহ কয়েকটি প্রতিমার আংশিক ভেঙ্গে ফেলেছে।’

গৌতম সাহার ধারনা, ‘পূজা মন্ডপের নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল ৬ টা পর্যন্ত এখানে নিরাপত্তা প্রহরী ছিল। সম্ভবত সে যাওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটেছে।’

তামাকপট্টী সার্ব্বজনীন দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না বলেন, ‘মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় আমার ব্যর্থতার দায় নিয়ে পূজা কমিটি থেকে পদত্যাগ করা উচিৎ।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: কবির হোসাইন জানান, ‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এই ঘৃন্য কাজটি করতে পারে। পুলিশ তদন্ত করছে, আশাকরি শীঘ্রই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা বলেন, ‘ধারনা করা হচ্ছে স্থানীয় শিশু পোলাপাইন কেউ এই ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী, যেকোন ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে শান্তি পূর্ণ ভাবেই নারায়ণগঞ্জে দূর্গোৎসব উদযাপিত হবে।’

আর শংকর সাহার এমন বক্তব্যে স্থানীয় পূজারীদের মাঝে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। মূলত এটিকে বিনষ্ট করতেই একটি কুচক্রী মহল প্রতিমা ভাংচুরের মাধ্যমে আমাদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করতে চাইছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল পূজা মন্ডপেই আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপিত হবে। তামাকপট্টী পূজা মন্ডপে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় অন্যত্র প্রভাব পরবে না। তবে আমরা আশাবাদী পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে শীঘ্রই প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবেন।’

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন পারভেজ জানান, ‘ধারনা করা হচ্ছে স্থানীয় কোন দ্বন্দের কারনে ইস্যু সৃষ্টি করতেই এখানে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করা হচ্ছে। আশাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রতিমা ভাংচুরের প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here