নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু।
দলীয় চেয়রপার্সণের সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণ হওয়ার পর থেকে পুলিশের হামলা মামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়ানোর কারনে তৃণমূলও মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে এই সংস্কারবাদী দুই নেতার দিক থেকে। আর মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুখে দু:খে পাশে থেকে আড়াইহাজার বিএনপিকে চাঙ্গা রাখছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। উদিয়মান এই নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে আড়াইহাজার বিএনপি’র আইকনে পরিনত হয়েছেন।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন আড়াইহাজার বিএনপি’র দুই সিনিয়র নেতা সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু। এক এগারোর সময় তাদের বিরুদ্ধে মান্নান ভূইয়ার সাথে মিলে দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বহু পুরানো। তাছাড়া গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতাহীন দলটির নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ খবর নেননি এ দুই সুবিধাবাদী নেতা। আর সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ। এবং এর প্রথম শিকার হন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

এরপর একে একে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় একশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। আর এসব মামলায় আটককৃত নেতাকর্মীদের পরিবারের কোন খোঁজ নেননি আঙ্গুর ও খসরু, এমনকি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের আইনগত সহায়তার বিষয়েও কোন উদ্যোগ নেননি। বরং তারা কেন্দ্রে লবিং করে আবারো দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছেন বলে মনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর তাই তৃণমূলের কাছ থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন তারা।

অপরদিকে, আড়াইহাজার বিএনপি’র আরেক নেতা কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে পুলিশের হামলা মামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতাসহ আইনগত সকল সাহায্য প্রদান করছেন নজরুল ইসলাম আজাদ।

সূত্র মতে, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‌্যালীর আয়োজন করা হয় গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকেই সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল করে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান ভন্ডুল করে দেয়। আর নজরুল ইসলাম আজাদসহ ৮৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দায়ের করে। আজাদ ৮৭ নেতাকর্মীর সবাইকে নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসেন।

আর নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানো ৭১ নেতাকর্মীর সকলের আইনী সহায়তার খরচ বহন করেন এবং আটককৃত নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন। তাছাড়া দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া সিলেট যাওয়ার প্রাক্কালে আড়াইহাজারে নেত্রীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন আজাদসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। আজাদ নিজের সহ সকল নেতাকর্মীর জামিনের ব্যবস্থা করেন এবং সকল নেতাকর্মীর পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আর তাই আড়াইহাজার বিএনপি’র স্বপ্ন পূরণের কান্ডারী হিসেবে আজাদকেই বেছে নিচ্ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here