নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আইভীর সাথে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আইভীর সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। সে (আইভী) সম্পর্কে আমার ছোট বোন। যদিও সে কারো কারো প্ররোচনায় বিভিন্ন সময় আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে অনেক কথা বলে। তৃতীয় একটা পক্ষ আইভীকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। আমি শিউর, আমরা দুইজন একসাথে বসলে আইভীকে এই প্ররোচনার বিষয়ে বুঝাতে পারবো।

রোববার (২১ জানুয়ারী) রাতে বেসরকারী টিভি চ্যানেল যমুনা টিভির আয়োজিত এক টক শো তে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। টক শো তে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার।

এসময় নিয়াজুল প্রসঙ্গে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, ওই দিনের ঘটনায় নিয়াজুলকে নিয়ে মিডিয়াতে যেভাবে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল, তা ছিল আংশিক। তবে এরপরদিন আমি সংবাদ সম্মেলণ করে সাংবাদিকদের কাছে পুরো ঘটনা ক্লিয়ার করেছি। যদিও খবরে নিয়াজুলকে আমার লোক বলা হয়েছিল। তবে আমি বলতে চাই, নিয়াজুল হচ্ছে আমার দলের কর্মী নজরুল ইসলাম সুইটের ছোট ভাই। যাকে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে কারাগারের বাইরে এনে বিএনপির লোকেরা হত্যা করেছিল। আর সেদিন (১৬ জানুয়ারী) বিএনপি’র লোকেরাই চেয়েছিল নিয়াজুলকেও হত্যা করতে। তার অপরাধ সে সুইটের ভাই। ওইদিন সে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে যাওয়ার সময় রাস্তায় মিছিল দেখে গাড়ী থেকে নেমে যায়। পরে হেঁটে যাওয়ার সময় আইভীর মিছিলে থাকা কিছু উশৃঙ্খল লোক তাকে মাটিতে ফেলে ১০ পেটাতে শুরু করে। পর পর তিনবার তাকে এভাবে পেটানোর পর চতুর্থবার বাধ্য হয়ে সে (নিয়াজুল) তার লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তার সেই পিস্তলটিও ছিনিয়ে নেয়া হয় যা এখনো উদ্ধার হয়নি।

গত ১৬ জানুয়ারীর সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদের পর যখন হকাররা আমার কাছে আসে, আমি তাদের বলেছিলাম আমার কিছু করার নাই। এটা সিটি করপোরেশন দেখবে। আপনারা সিটি করপোরেশন যান। এরপর তারা সেখানে (নাসিক) গিয়ে কোন সদুত্তর না পেয়ে আমার বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের দারস্থ হলে তিনি হকারদের বিষয়টি সমাধানে সিটি করপোরেশনকে এমপি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। যার জবাব এসেছে একজন কর্মচারীর কাছ থেকে। এতে সবাই ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরবর্তীতে তারা আমার দারস্থ হন এবং একটি সমাবেশ করলে আমি সেখানে মানবতার খাতিরে গিয়ে বিষয়টি সমাধানে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। আমি সেদিন বলেছিলাম হকাররাও মানুষ। ভোটের সময় আমরা এদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে তাদের ভোটেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হই। আর ভোট চলে গেলে তাদের সুযোগ সুবিধার কথা ভাববো না। এমন রাজনীতি আমি করি না। আমি ভেবেছিলাম মেয়র আইভী বিষয়টি বিবেচনায় এনে হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবে। কিন্তু ওনি সেটা না করে উল্টো ওইদিন লোকজন নিয়ে সেখানে হকার উচ্ছেদে আসলে হকাররা বিক্ষুব্ধ হলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। পরে আমি আমার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ফোন পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

তিনি আরো বলেন, নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উত্থানের পেছনে বিএনপি ও তৈমূর আলম খন্দকারের অবদান রয়েছে বলে দাবী করেছেন ২০১১ সালে পৌরসভা ভেঙে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করতে তৈমূর ভাইকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here