নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলমের পথেই হাটছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি- নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটাই মনে করছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। গত বছরে গঠিত জেলা বিএনপি’র দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতায় পুনরায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। দলীয় চেয়ারপার্সণের সাজার প্রতিবাদে দেয়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে তৈমূর মাঠে না থাকলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেন কাজী মনিররা। আর তাই চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে তৈমূরই চালিকা শক্তিতে পরিনত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র।

সূত্রে প্রকাশ, বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার সাজাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে মামলা হামলার শিকার নেতাকর্মীদের জন্য উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এড. তৈমূর। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাই গিয়ে হাজির হচ্ছেন তৈমূরের কাছে। তৈমূরও নিরলসভাবে নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর এর স্বীকৃতি স্বরূপ কেন্দ্রীয় বিএনপিও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র দায়িত্বভার অর্পণ করে এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। দায়িত্ব পেয়ে এড. তৈমূরও নেতাকর্মীদের জন্য আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে থাকছেন। তবে দু-একটি কর্মসূচিতে তৈমূর ঢাকায় উচ্চ আদালতে নেতাকর্মীদের জামিনের কাজে ব্যস্ত থাকায় নারায়ণগঞ্জে অনুপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র নেতকর্মীরা। তৈমূর সামনে থেকে নেতৃত্ব না দেওয়ায় থেমকে যাচ্ছে জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম। আর তাই তৈমূরকেই এখন জেলা বিএনপি’র চলিকা শক্তি হিসেবে কাজ করার আহবান তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর চরাও হয় পুলিশ। এবং এর প্রথম শিকার হন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

এরপর একে একে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রহিমা শরিফ মায়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের আহবায়ক রাশিদা জামাল, ২৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান, ১৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আকতার হোসেন অপুসহ আটক প্রায় একশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। এতা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্র্মীর মামলা পরিচালনায় ঢাকায় উচ্চ আদালতে আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপি চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here