নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে সমন্বয় রাখতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে ডাকা বিভিন্ন কর্মসূচিতে তৈমূরের সাথে দেখা মিলছে না জেলা বিএনপি’র সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের। তৈমূরের অনুপস্থিতিতে কর্মসূচিহীন থাকছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আর যেদিন তৈমূর নারায়ণগঞ্জে কর্মসূচি পালন করছে, সেদিন পাশে পাচ্ছেন না জেলা বিএনপি’র কাউকে। ফলে সমন্বয়হীন হয়ে পরছে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে কমিটি গঠন হওয়ার পর প্রায় এক বছরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে উজ্জিবীত করতে পারেননি। বরং জাতীয় বা দলীয় কর্মসূচি পালনে বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সর্বপ্রথম জেলা বিএনপি’র বড় আয়োজন কর্মীসভায়ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সে অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। এরপর থেকে যে কোন কর্মসূচিতে আর নেতাকর্মীদের নিয়ে মনে রাখার মতো কোন আয়োজন করতে পারেননি কাজী মনির ও মামুন মাহমুদ। এমনকি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যান জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনির। দলীয় চেয়ারপার্সণের কক্সবাজার যাত্রা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ অতিক্রমের সময় নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন করার ক্ষেত্রেও সুপার ফ্লপ থাকেন তিনি। এদিন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনির।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ বিএনপি’র চেয়াপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া আরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন ধার্য হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান এই সুযোগ সন্ধানী নেতা। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত গ্রেফতার হয়ে আর মামলা মোকদ্দমায় নাজেহাল হলেও কাজী মনিরের গায়ে এর আঁচ পর্যন্ত লাগেনি।

গত এক বছরে ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যর্থ এই সভাপতি ২৬ কাঠি কখনো একই করতে পারেননি। ফলে নেতাকর্মীদের কাছে জেলা বিএনপি’র সভাপতির মতো দায়িত্বপূর্ণ পদের জন্য অয়োগ্য হয়ে পরেন কাজী মনির। তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উজ্জিবীত না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে গণ স্বাক্ষর, জেলা প্রশাসক বরাবার স্মারকলিপি প্রদানসহ সকল কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি’র নেতৃত্বের ভার এড. তৈমূরের হাতে দিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থ এই নেতা কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে তৈমূরকে ছাড়াই জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান করে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। আর এরপর থেকে আর কোন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি কাজী মনিরকে।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর চরাও হয় পুলিশ। এবং এর প্রধম শিকার হন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর একে একে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় একশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। আর এসব মামলায় উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এড. তৈমূর। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাই গিয়ে হাজির হচ্ছেন তৈমূরের কাছে। আর কেন্দ্রও এর স্বীকৃতি স্বরূপ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র দায়িত্বভার অর্পণ করে এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। দায়িত্ব পেয়ে এড. তৈমূর আলম খন্দকার মামলা হামলাকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথে থাকছেন। চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি, লিফলেট বিতরণসহ কর্মসূচিগুলোতে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে পালন করে যাচ্ছেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার কিন্তু পাশে পাচ্ছেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র দায়িত্বশীল কাউকে। ফলে তীব্র সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে তৈমূরের সাথে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here