নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিজ বাড়ি মজলুম মিলনায়তনকে ‘হাওয়া ভবন’ বানিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ধ্বংসের পর এবার এখান থেকেই নারায়ণগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পদ পদবীহীন বিএনপি নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার- তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটাই মনে করছে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা।
ফোরামের কমিটি গঠন করবে কেন্দ্রীয় কমিটি আর এটা অনুষ্ঠিত হবে আদালত পাড়ায়। কিন্তু তৈমূর কোন ক্ষমতাবলে তার বাসায় বসে ফোরামের পাল্টা কমিটি গঠন করছে, সে প্রশ্নই এখন সবার মুখে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই এড. তৈমূর আলম ফোরামের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে তৎপর হয়ে পরেছেন এবং আগামী আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি’র প্যাণেলকে পরাজিত করার নীল নক্সা তৈরী করছেন সেই মজলুম মিলনায়তনে বসে বলে মনে করেন তারা।

সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পূর্বে এড. সরকার হুমায়ুন কবীরকে সভাপতি ও এড. খোরশেদ আলম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮৭ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্র থেকে গঠিত হয়। এই কমিটিকে সুপারিশ করেছেন বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. সানাউল্লাহ মিয়া।

আরো সুপারিশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম আর অনুমোদন দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই কমিটি গঠনের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ আদালতের গুটিকয়েক আইনজীবীকে নিয়ে অদালত পাড়ায় ফোরাম বিরোধী মিছিল এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে কোন্দল প্রকাশ্য রূপ দেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে নিজ বাড়ি মজলুম মিলনায়তনে বসে ফোরামের পাল্টা কমিটি গঠন করেন তৈমূর।

তৈমূরের পাল্টা কমিটি গঠনের পর ক্ষোভে ফেটে পরেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। গত ২১ নভেম্বর আদালতের বার ভবনে আয়োজিত ফোরামের বৈঠকে আইনজীবীরা পাল্টা কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পরেন এবং তৈমূরকে আওয়ামীলীগের এজেন্ট ও নাজমূল হুদার প্রেতাত্মা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অবিলম্বে এই কমিটি প্রত্যাহারের আহবান জানান।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবীর বলেন, ফোরামের কমিটি গঠনের এখতিয়ার কি এড. তৈমূর আলম খন্দকারের আছে? তিনি ফোরামের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার কে! কমিটি অনুমোদন দেবে ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি। আগামী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে বিএনপি প্যাণেলকে পরাজিত করার এজন্ডা বাস্তবায়নে এই ষড়যন্ত্র করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক যুগ হতে চললো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেই বিএনপি। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অনেকে এর জন্য ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিকে দায়ী করে আসছেন। দলীয় কার্যালয়ে না গিয়ে ব্যক্তিগত বাসভবনে বসে নিজস্ব ঘরাণার লোকদের নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফল ভোগ করছে বিএনপি-এমনটাই অভিযোগ তাদের। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ‘হাওয়া ভবন’ সংস্কৃতির পূনরাবৃত্তি করা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারের পতনের মূলে রয়েছে ‘মজলুম মিলনায়তন’- এমনটাই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

এড. তৈমূর আলম খন্দকার হাওয়া ভবনের আদলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করছিলেন ‘মজলুম মিলনায়তন’ থেকে। দলীয় কর্মসূচী গ্রহণ, রাজনৈতিক আলোচনা এমনকি নেতাকর্মীদের বহিস্কারাদেশের মত সিদ্ধান্তও এই মিলনায়তন থেকেই গৃহিত হয়েছে। যার ফলে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, হাওয়া ভবনের মত বিএনপির ‘কন্ট্রোলিং পাওয়ার’ মাসদাইরের ‘মজলুম মিলানায়তন’! হাওয়া ভবন যেমন বিএনপি’র পতনের মূল, তেমনি তৈমূরের ধ্বংসের নেপথ্য কারন এই ‘মজলুম মিলনায়তন’। আর এখন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছেন এই মিলনায়তনে বসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here