শিমরাইলে তোপের মুখে পাউবো প্রকৌশলী

0
285

নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মানববন্ধন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাসরত ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

ডিএনডির জলাবদ্ধ মানুষের চরম দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে ডিএনডিবাসীকে মুক্তির দাবিতে এ মানবববন্ধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে যোগ দেয় ভুক্তভোগী ডিএনডিবাসী।

শনিবার (১৯ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে শিমরাইল ডিএনডি সেচ পাম্পের সামনে ৬০-৭০ জন ছাত্র এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। এ সময় পাম্প হাউজে প্রবেশকালে ছাত্রদের তোপের মুখে পড়েন পাম্প হাউজের দায়িত্বরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল জাব্বার।

শিক্ষার্থীরা তার কাছে জানতে চান, নিষ্কাশনের জন্য ছোট ২৫টি পাম্পের মধ্যে ৪-৫টি ছাড়া বাকিগুলো কেন চালানো হয় না? বড় ৪টি পাম্প কেন সব সময় চালু রাখা হচ্ছে না? জবাবে প্রকৌশলী তাদেরকে পাম্প বিকলসহ নিষ্কাশনের নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

ছাত্ররা এ সময় বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে যেন ডিএনডির কয়েক লাখ মানুষকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

অন্যথায় ৭ দিন পর ডিএনডিতে বসবাসরত বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় আন্দোলনে যাবেন তারা। ওই প্রকৌশলী ছাত্রদের দাবির মুখে ঘোষণা দেন যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে ৭ দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তিনি করবেন।

মানববন্ধনে সংগঠনটির আহ্বায়ক বেলাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল আনোয়ার ও সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনের পর শিমরাইল পাম্প হাউজে গিয়ে দেখা গেছে, ডিএনডিতে পানির উচ্চতা ৩ দশমিক ৭৫ মিটার। এটা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২৫ মিটার বেশি। ৪৮ ঘণ্টা আগেও পানির স্তর একই ছিল।

অপরদিকে শীতলক্ষ্যায় পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ মিটারে যা ৪৮ ঘণ্টা আগে ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার কম। ১২৮ কিউসেক সেচ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি পাম্পের মধ্যে একটি পাম্প ৩১ জুলাই রাত থেকে বিকল হয়ে আছে।

এই পাম্পটি ২০ দিন বিকল থাকার পর গত ২৬ জুলাই চালু করা হয়েছিল। এছাড়া ৫ কিউসেক সেচ ক্ষমতা সম্পন্ন ২৫টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ৩টি পাম্প চালু রয়েছে। বাকি পাম্পগুলো বিকল হয়ে রয়েছে।

পাম্প হাউজে দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বাছার জানান, ১২৮ কিউসেক সেচ ক্ষমতা সম্পন্ন যে পাম্পটি বিকল হয়েছে এটি মেরামত করা খুব জটিল কাজ। কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের কোনো শর্টসার্কিট হয়ে গেলে সব পাম্প বন্ধ হয়ে পাম্প হাইজসহ পুরো ডিএনডি পানির নিচে ডুবে যাবে।

এ কারণে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ৫ আগস্ট থেকে ওই কাজ শুরু করা হলেও ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ওই বড় পাম্পটি মেরামত করতে পারেনি পাম্প হাউজ কর্তৃপক্ষ।

পাম্প হাউজের একটি সূত্র জানায়, ডিএনডি পাম্প হাউজের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার শুষ্ক মৌসুমে পাম্পগুলো মেরামত না করে নিজের আত্মীয় ঠিকাদারদের মধ্যমে পাম্প হাউজের অন্যান্য সংস্কার করেছিল। এছাড়া তার এক ছেলে ও আত্মীয়দের এই পাম্প হাউজে চাকরি দিয়ে নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করেছিল। এতে করে ভালোভাবে পাম্প হাউজের ভালো সংস্কার না করায় পাম্পগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না বর্তমান পাম্প হাউজের কর্মকর্তারা। ফলে ডিএনডিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ডিএনডিবাসীকে ভোগ করতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here