নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যার ৫ বছর পূর্তিতে তার কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেছেন ত্বকীর বাবা সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীসহ বিশিষ্টজনেরা।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় বন্দর সিরাজ শাহ্র আস্তানায় ত্বকীর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন তারা। এসময় অশ্রুসিক্ত রফিউর রাব্বী পুত্রের কবরে চুম্বন দিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ত্বকীর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, আনোয়ার হোসেন, জাহিদুল হক দিপু, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, ওয়ার্কাস পার্টি জেলা সভাপতি হিমাংশু সাহা, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমীর সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, প্রগতি লেখক সংঘ থেকে রইস মুকুল, গণসংহতি জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, অঞ্জন দাস, পপি রানী সরকার, প্রগতি সাহিত্য পরিষদ, মৈত্রী ঘোষ, গণসংহতির বন্দর থানার পক্ষ থেকে কাউসার হামিদ, এমদাদ হোসেন, বাসদের সভাপতি নিখিল দাস, কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস, কমিউনিস্ট পার্টি জেলা সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম, আব্দুল হাই শরীফ, সমগীত সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে আমির হোসেন, ভবানী শংকর রায়, যুবলীগ নেতা শরীফ হীরা, ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শুভ দেব, গোলাম রাব্বানী, ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সভাপতি সুমাইয়া সেতুসহ অন্যান্যরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে ত্বকীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে তানভীর মুহম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হয়। ত্বকীর বাবা ও আত্মীয় স্বজনরা চারদিক খোঁজাখুঁজি করেন। না পেয়ে সন্ধ্যায় ত্বকীর বাবা রাফিউর রাব্বী নারায়নগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। দুই দিন পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুমুদিনী জোড়াখালে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। পরে রাফিউর রাব্বী বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা করেন।

জানা গেছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন ত্বকীকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে এই মামলাটি পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর র‌্যাব এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউসুফ হোসেন লিটন, সুলতান শওকত ভ্রমর এবং তায়েব উদ্দীন জ্যাকি ও সালেহ রহমান সীমান্তকে গ্রেফতার করে। এর আগে পুলিশ গ্রেফতার করে রিফাত বিন ওসমানকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে লিটন ও ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তখন র‌্যাব কর্মকর্তারাও বলছিলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। যে কোনো সময় চার্জশীট দেয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই ধরা পড়ে খুনীদের জবানবন্দি মিলছে না। কিছু তথ্যেও রয়েছে গড়মিল। ফলে নতুন করে তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছরেও আদালতে চার্জশীট দাখিল করতে পারেনি র‌্যাব-১১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here