নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ত্রিবিভক্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যকার কোন্দলের প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়েছে দল দু’টির অঙ্গসংগঠন গুলোতেও।
যার প্রমাণও ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন হিসেবে একটি উদ্বৃতি টেনে তারা বলেন, ‘কথায় আছে অভিভাবক যেমন হবেন, তাদের সন্তানেরাও ঠিক তেমনই হবে। যেমনটা রাজনীতির ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।’

‘অর্থাৎ, রাজনীতিতে প্রত্যেকটি অঙ্গসংগঠনেরই অভিভাবক হচ্ছে মূল দল। যেমন-যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অভিভাবক হচ্ছে আওয়ামীলীগ, তেমনি যুবদল, স্বেচ্ছা সেবকদল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মূল দল হিসেবে তাদের অভিভাবক হচ্ছে বিএনপি। আর সেই মূল দলের অভিভাবকের দায়িত্বে থাকেন মূলত নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ নেতারাই। তাই অভিভাবক হয়ে এই শীর্ষ নেতারা যখন নিজেরাই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন, তখন তাদের সন্তান অর্থাৎ সহযোগী সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দরাও অনুগামীদের অনুসরন করায় বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ভেঙ্গে পড়ে রাজনীতির চেইন অব কমান্ড। তখন পরিস্থিতি অনুকূলে যেতে দেখে কোন্দল ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান মূল দলের অভিভাবকেরা।’

জানাগেছে, ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে এতদিন মহানগর আওয়ামীলীগ কার্যকরী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এতদিন দু’ভাগে বিভক্ত থাকলেও সম্প্রতি যুব মহিলালীগের একটি পাল্টা কমিটি গঠন ইস্যুতে শামীম ওসমানের সাথে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালার বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কারনে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ এখন তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর যার প্রভাবে দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

ফলে শামীম ওসমান পন্থী আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এখন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। দিচ্ছেন নানা হুংকার।

তবে পিছিয়ে নেই শামীম ওসমান বিরোধীরাও। আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহার অনুগামী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও এখন শামীম ওসমানের প্রতি প্রকাশ্যেই বিষেদাগার মূলক বক্তব্য দিচ্ছে।

কিন্তু নিশ্চুপ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী অনুগামীরা। তারা তাদের নেত্রীর মতই নীরবে রাজনীতি করে যাচ্ছেন।

অপরদিকে, আওয়ামীলীগের চেয়ে আরো একধাপ এগিয়ে আছে বহু বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তারাও এখন তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

যার মধ্যে একটি পক্ষ হচ্ছে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, একটি পক্ষ হচ্ছে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও আরেকটি পক্ষ হচ্ছে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম সমর্থক।

আর ত্রিবিভক্ত বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উগ্র হয়ে উঠেছে ছাত্রদল। যার প্রমাণও ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসকে দালাল আখ্যায়িত করে লাঞ্ছিত করতে দেখাগেছে জেলা ছাত্রদল আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের সমর্থকদের। আর সংঘর্ষে বাঁধে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহআলম অনুগামী জেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান রনি।

অপরদিকে, শহরের মিশনপাড়ায় মহানগর বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই এড. আবুল কালামের পুত্র মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা গ্রুপ জেলা ছাত্রদল আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতে নিজের বড় ভাইয়ের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপড় বেজায় চটেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here