নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ত্রিরত্নের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি-এমনটাই মনে করে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
আর তৃণমূলের এই ত্রিরত্নের হলেন, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

তৃণমূলের মতে, এই তিনজন নিজেদের মহানগর বিএনপি’র সর্বেসর্বা ভাবছেন এবং দলটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছেন, যে কারনে দলকে সংগঠিত করা যাচ্ছে না বরং দলের মধ্যে আরো গ্রুপিং সৃষ্টি হয়ে বিভক্তি বাড়ছে। আর তাই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সফল হতে হলে এই ত্রিরত্নের হাত থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে মুক্ত করার আহবান তৃণমূলের।

তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র আংশিক কমিটি। এ কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামালকে, আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু ওরফে পাকনা টিপুকে। কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে কিছুদিন পর্যন্ত সকলের মিলেমিশে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু যখনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহনের সবুজ সংকেত পাওয়া গেলো, তখনই পাশার দান উল্টে ফেললেন এই তিন সুযোগ সন্ধানী নেতা। নিজেদেরকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে তৈরী করলেন একটি আলাদা বলয়। আর এ বলয়ের বাইওে যারা রয়ে গেলেন, তাদেরকেই মহানগর বিএনপি’র বাইরের বলে প্রচার করতে লাগলেন।

সূত্র আরো জানায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সংগঠিত করার জন্য সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের অবস্থাও নাজেহাল। সরকারী দলের মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে যাযাবর জীবন যাপণ করছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ পর্যায়ের এসব তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচ ঘোষনা করে বিএনপি।

সদস্য সংগ্রহ ও নাবায়ণ কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতা এনে ঢাক ঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সেক্রেটারী এটিএম কামাল। কিন্তু বেলুনের হাওয়া বের হওয়ার মতো এর পরেই ঝিমিয়ে পরেন তারা। মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে তৃণমূলকে সংগঠিত করে কর্মসূচি সফল করার পরিবর্তে তারা চারদেয়ালে বন্দি করে ফেললেন নিজেদের। মাঝে মাঝে উচু দালানের আয়েশী ঘরে বসে বক্তব্য বিবৃতিতে দায় সেরেছেন আর পাকনা টিপুকে দিয়ে বাকীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অপ প্রচার চালিয়েছেন।

পক্ষান্তরে বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূও আলম খন্দকার ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ব্যানারে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। কি দিন, কি রাত- মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। সাধারণ নেতাকর্মীদের তার কাছে ডাকছেন না, তারা নিজেরাই তাদের কাছে যাচ্ছেন। ফলে তৃণমূলের সাথে তাদের গড়ে উঠছে হৃদয়ের বন্ধন। আর এতেই গাত্রদাহ শুরু হচ্ছে ত্রিরতœ নেতাদের। তাই নিজেদেও মহানগর বিএনপি’র ভিতরে রেখে বাকী সবাইকে দলের বাইরে বলছেন এবং তাদের বাইরে যারা আছেন, তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি এই তিন নেতার নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিনত হয়েছে এবং এ থেকে উত্তরণ করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে এর কড়া মাশুল দিতে হবে বলে মনে করে মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here