নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতের হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের ভাই বোন সম্পর্কিত প্রভাবশালী দুই জনপ্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান মুখোমুখি অবস্থানে থাকার কারনে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) বিকেলে নগরীতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর ব্যাপক সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে নগরীতে।
সর্বত্রই চলে শামীম ওসমান ও আইভীর সমর্থক হকারদের মধ্যকার সংঘর্ষের সমালোচনা।

রাত সাড়ে ৯টার পর নগরীর ২ নং রেলগেট এলাকা থেকে চাষাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। গোটা নগরীও যেন প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

কারন, মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৭ জানুয়ারী) বিকেল ৩ টায় চাষাড়ায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে হকারদের নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ফুটপাতেও তাদের বিকেল ৫টার পর থেকে বসার নির্দেশ দেন তিনি।

অপরদিকে, ফুটপাতে কোনক্রমেই হকার বসতে না দেয়ার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে রয়েছেন সংঘর্ষে আহত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি মঙ্গলবার রাতে নগর ভবন থেকে বাসায় যাওয়ার সময় নগর ভবনের সামনে উপস্থিত তার অনুগামীদের সাথে আলাপকালে আবারো বলেন, কোন অবস্থাতেই ফুটপাতে হকার বসতে দিব না। প্রয়োজন হলে আবারো নগরবাসীকে নিয়ে আমি রাস্তায় নামবো।

তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় বুধবার কোন কর্মসূচী করবেন কিনা, তা স্পষ্ট ভাবে কিছুই জানায়নি আইভী।

এদিকে, মঙ্গলবারের মত বুধবারও কোন ধরনের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি যেন না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনে আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করা হতে পারে বলে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, সদর মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনার পর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। বুধবার হকারদের কোন প্রতিবাদ সমাবেশ আছে কিনা তা জানা নেই। যদি কোন পক্ষের কর্মসূচী থাকে তাহলে প্রয়োজনে পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনা নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, নগরীর ফুটপাতে সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে হকারদের বসাকে কেন্দ্র করে ১৬ জানুয়ারী বিকেল ৪ টায় রনক্ষেত্রে পরিনত হয় চাষাড়া। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি বিনিময়, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে আহত হন মেয়রসহ অর্ধশতাধিক লোক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোন মুখী আগে গুলি ছুড়বে, তা নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। এরপর প্রথমে শামীম ওসমান পন্থী নেতাকর্মী ও হকারদের উদ্দেশ্যে প্রথম ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে পুলিশ। পরে আইভী গ্রুপের দিকে গুলি বর্ষণ করে।

তখন হকারদের প্রতিরোধের মুখে ইটের দ্বারা পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তায় বসে যান মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। আর সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে শহরের চাষাড়া হক প্লাজার সামনে এসে হকারদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

এরআগে, নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য কালে নগরীর ফুটপাতের হকারদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্ষুধার্থ গরীবের পরিবারে আহারের ব্যবস্থার লক্ষ্যে দাবীর প্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারী নগরীর ফুটপাতের হকারদের মঙ্গলবার বিকেল ৫টার পর থেকে বসার নির্দেশ দেন শামীম ওসমান। অপরদিকে, সাধারন জনগণের চলাচলের স্বার্থে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন আইভী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here