নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দালাল চক্রের ঘেরাটোপে পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স করাতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন ভুক্তভুগীরা।
তবে এখানকার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ের সামনে দালাল চক্র দেখতে না পেলেও প্রকৃতপক্ষে কার্যালয়টিতে প্রবেশের পূর্বেই দালাল চক্রের সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারন জনগণকে।

পরবর্তীতে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরেও নির্দিষ্ট সময়ে লাইসেন্স পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বিড়ম্বনার শিকারও হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগীরা।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নারায়ণগঞ্জ সার্কেল এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারের কার্যালয়টি দালালদের কারনে হয়েছে এখন জনভোগান্তির কারখানা।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন অবস্থান করে বিআরটিএ অফিসে গাড়ির লাইসেন্স করাতে আসা কয়েকজন চালকের সাথে আলাপাকালে এমনই ভোগান্তি কথা জানাযায় ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভুগী জানান, দালাল ছাড়া এখানে নির্দিষ্ট সময়ে লাইসেন্স পাওয়া খুবই দু:সাধ্যকর ব্যাপার। লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য ফরম পূরন করে নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর তাদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও লাইসেন্স মিলছে না। পূর্ণাঙ্গ লইসেন্স হাতে পাওয়ার পূর্বে কয়েকটি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হয় তাদেরকে।

তারা আরো জানান, পরীক্ষার তারিখ অনেক সময় বিভিন্ন কারনে পরিবর্তন হয়ে থাকে। পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সিরিয়াল মেন্টেন করতে হয়।’

দেখাগেছে, বুধবার বিআরটিএ কার্যালয়ে যে কয়েকজন লাইসেন্স প্রত্যাশী এসেছেন, তাদের দালাল চক্র বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে তাদের দ্বারা লাইসেন্স করাতে নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন। অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে লাইসেন্স করাতে আসা লোকজনদের দালালরা বলেন, ‘আমাদের মাধ্যমে সব কিছু জমা দেন, তাইলে খুব তাড়াতাড়ি কয়েক দিনের মধ্যেই লাইসেন্স পাইবেন। নয়তো পরীক্ষা দিতে দিতে লাইসেন্স পাইতে বছর লাইগা যাইবো।’

দালাল আরো জানায়, অফিসের সাধারন কর্মচারীরা যারা তাদেরকে টাকা দিতে পারেন তাদের লাইসেন্স খুব তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন। আর যারা টাকা দিতে পারেন না তাদের ফাইলটি এই অফিসে আটকে থাকে মাসের পর মাস। টাকার জন্য অফিসের কর্মচারীরা নানা ধরনের অজুহাত দেখিয়ে বলেন, তোমার ভোটার আইডি কার্ড ঠিক নেই, ঠিকানা ঠিক নেই। এগুলো ঠিক করে আনতে হবে। টাকা দিলে আবার সব কাগজপত্রই এখানে ঠিক থাকে।

এ বিষয়ে জানতে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ সার্কেল এর সহকারী পরিচালক মো: আবদুল খালেক নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘দালাল চক্রের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর লাইসেন্স প্রত্যাশীদের পরীক্ষার বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট স্যার দেখভাল করে থাকেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here