নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরবাসীকে যানজট মুক্ত নগরী উপহার দেয়ার ‘দায়িত্বটা’ নগরমাতার হলেও এখন তা নিরসনের ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান। যিনি ইতিমধ্যেই নিতাইগঞ্জ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড সরানোর মাধ্যমে স্থানীয়দের বহু বছরের দূর্ভোগ লাঘবে সফল হয়েছেন।
আর তাই এখন সেই সফলতার আলোকে নগরীর প্রধান সমস্যা ‘যানজট’ পুরোপুরি ভাবে নিরসনের লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ’ নিয়েছেন সেলিম ওসমান। যা কিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ পরিবহন ব্যবসায়ী শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন মতবিনিময় সভা। যানজট মুক্ত নগরী গড়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত করেছেন রোডম্যাপ, প্রশাসনসহ পরিবহন ব্যবসায়ীদের করনীয় বিষয়ে দিয়েছেন নির্দেশনা।

যা পর্যায়ক্রমে হবে বাস্তবায়ন আর আগামী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকেই এর সুফল ভোগ করতে পারবেন সাধারন যাত্রীরা। যানজট মুক্ত হবে নগরী, কাঙ্খিত গন্তব্যে যেতে নগরবাসীকে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

জানাগেছে, নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষে নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডসহ নগরীর বুকে থাকা সকল অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড গুলো উচ্ছেদের চেষ্টা করওে হাইকোর্টের দ¦ারস্থ হয়ে ব্যর্থ হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।

কিন্তু গত ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে যখন যোগ দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান, তখন আইভী নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পরিবহন স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সহযোগিতা করতে বড় ভাই সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এরপরই নগরীর যানজট নিরসনে ছোট বোন আইভীর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে মাঠে নেমে পড়েন সাংসদ সেলিম ওসমান। নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী শ্রমিক, ট্রাক চালক শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে জনগণকে যানজট মুক্ত নিতাইগঞ্জ উপহার দিতে সক্ষম হন।

এখন নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়া পর্যন্ত সড়কটি যানজট মুক্ত করতে আবারো ‘উদ্যোগ’ গ্রহণ করেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নগরবাসীকে যানজট মুক্ত নগরী উপহার দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এলক্ষ্যে কাজ করতে গত ১৭ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সাংসদ সেলিম ওসমান সভায় উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান মো: শহিদুল্লাহকে দায়িত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাসষ্ট্যান্ড জঞ্জালমুক্ত করে সারিবদ্ধভাবে বাস রাখার জন্য। বাসষ্ট্যান্ডে যে কয়েকটি গ্যারেজ রয়েছে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। টার্মিনালের বাইরে রাস্তার উপর কোন বাস টার্মিনাল থাকতে পারবে না। হিমাচল ও শিতল ট্রান্সপোর্টের বাস রাস্তার উপর পাকিং করে রাখা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কাউন্টারের সামনে একটির বেশী বাস থাকতে পারবে না।

সাংসদ সেলিম ওসমান নাসিক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিবি রোডের উপর যে রোড ডিভাইডার রয়েছে, তা প্রায় তিন ফুট জায়গা নষ্ট করছে। তাই এই ডিভাইডারগুলো তুলে দিলে যানজট অনেকাংশে লাঘব হবে। তাছাড়া শহওে যানজটের অন্যতম কারন অবৈধ রিক্সা। সিটি কর্পোরেশন যদি তাদেও রিক্সার লাইসেন্সগুলো ডিজিটাল করে দেয়, তাহলে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাতের হকারদের একেবারে কোন পূণর্বাসন ছাড়া উঠিয়ে না দিলে তারা কি করবে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশে ফুটপাতের উপর হকার ব্যবসা করছে। কিন্তু তা হচ্ছে একটা নিয়মের মধ্যে। আমরা তাদের ট্রেড লাইসেন্স দিবো না, কিন্তু একটা নিয়মের মধ্যে আনতে পারবো। নগরীর যানজট নিরসনে একে একে সকল উদ্যোগই নেয়া হবে। কিন্তু তা সহনশীল উপায়ে, পর্যায়ক্রমে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান করে নগরীকে যানজট মুক্ত করা হবে। এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় এই কাজ সফল হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here