নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সাথে চুনকা পরিবারের পূর্ব বিরোধটাই এতদিন জ্ঞাত ছিল সর্বমহলে।
কিন্তু এখন চুনকা পরিবারের সদস্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ব্যাতীতও যে নারায়ণগঞ্জে ওসমান বিরোধী আরো কেউ আছে, তারই তালিকা যেন ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে দাবী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

যেই তালিকায় সর্বশেষ নাম লিখিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ঘনিষ্ট বন্ধু নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পাির্টর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে গত ৩১ মার্চ ফতুল্লার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম এ্যাটায়ার্সে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে আয়োজিত সভা এবং উক্ত সভায় উপস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রসঙ্গে গত ১৭ এপ্রিল দলীয় কার্যালয়ে মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় মনোনয়ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল বিদ্বেষীমূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়া হবে। সম্প্রতি একটি গার্মেন্টসে বসে নারায়ণগঞ্জের আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তা প্রতিহত করা হবে। সারাদেশে এরশাদ ১০ টি আসনও পাবে না। তাই কোনক্রমেই আগামীতে জাতীয় পার্টিকে আসন ছাড় দেয়া হবে না।’

আর এমপি শামীম ওসমানের বন্ধু হয়েও তাঁরই মেঝ ভাই এমপি সেলিম ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ তাকে উদ্দেশ্য করে ভিপি বাদল বিরোধী বক্তব্য দেয়ায়, ওসমান বিরোধী হেভীওয়েটদের তালিকায় এখন বাদলও নাম লিখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওসমান অনুসারীরা।

তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক থাকাকালীন সময়েই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সেলিম ওসমানের কিছুটা মনমানিল্যের সৃষ্টি হলেও দলের অভিভাবক হিসেবে আব্দুল হাই শামীম ওসমানের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়ার প্রথম দাবী জানানোর পাশাপাশি গত ১৭ এপ্রিল দলীয় কার্যালয়ে মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় আব্দুল হাই জাতীয় পার্টি নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয়ায় চটে যান সেলিম ওসমান। থাইল্যান্ডে বসেই স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে আব্দুল হাই প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

এরআগে, সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশের সম্পর্ক ভাল থাকলেও সম্প্রতি একটি জাতীয়সহ স্থানীয় তিনটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে উভয়ের সেই সম্পর্কে চির ধরান আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রত্যাশী পলাশ।

সেই সংবাদ প্রকাশের নেপথ্যে অন্য কোন কারন থাকলেও পলাশ মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় প্রতিপক্ষ হিসেবে শামীম ওসমানকেই এরজন্য ইঙ্গিতে দায়ী করেন তিনি। আর পূর্বের ন্যায় ওসমান বিরোধী তালিকায় প্রকাশ্যে চলে আসেন পলাশ বলে দাবী করেন তৃণমূল।

এছাড়া, গত জানুয়ারীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী দেয়া নিয়ে শামীম ওসমানের সাথে মতবিরোধের সৃষ্টি হয় তারই দুই বন্ধু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার।

কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে শামীম ওসমান বার নির্বাচনী প্রচারনায় গিয়ে সেই দুই বন্ধুকে গলায় ধরে মতবিরোধের অবসান ঘটান।

আর গত বছর মে মাসে জেলা ও মহানগর যুব মহিলালীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমানের সাথে দ্বন্দে জড়ান মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, জেলা যুব মহিলালীগের আহ্বায়ক ইয়াসমীন চৌধুরী লিন্ডা, মহানগর আহ্বায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা।

ওসমান পরিবারের সাথে অতীতে তাদের সুসম্পর্ক থাকলেও এই কমিটি ইস্যুতে উভয়েই বিরোধে জড়িয়ে যান। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানকে খোকন সাহা ও মালার গালাগাল করার দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিরোধ আরো চরম পর্যায়ে চলে যায়।

তাছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পথে থাকলেও শেষতক চেয়ারম্যান হতে না পারায় শামীম ওসমানের কিছুটা মনক্ষুন্ন হন বোমা হামলায় দু’পা হারানো মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল। আর আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও শামীম ওসমানের বন্ধু আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here