নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবারো শারদীয় দূর্গোৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীণ নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারে। প্রায় চার বছর আগে বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো পর্যন্ত পুন:স্থাপিত না হওয়ায় অন্ধকারেই কাটবে তাদের এবারের দূর্গোৎসব। পূজা মন্ডপে সাময়িক আলোর ব্যবস্থা করা হলেও মিলের আবাসিক এলাকায় বসবাস করা পরিবারগুলোর বাড়িতে রয়ে গেছে সেই পুরানো অন্ধকার। যার কারনে শারদীয় দূর্গাপূজার আনন্দ তাদের মনকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ আগষ্ট নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রায় অর্ধ শতাধীক পরিবারের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় নীট কণসার্ণ গ্রুপের মালিক জয়নাল আবেদীন মোল্লা। সে থেকে এখন পর্যন্ত এই নাগরিক সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত তারা। গ্যাস পানি আর বিদ্যুতের অভাবে চরম মানবেতর জীবন যাপণ করছে মিলের শেয়ারহোল্ডারদেও প্রায় ৫০টি পরিবারের সদস্যরা। আর তাই বিভিœ উৎসব পার্বণ এলে তাদেও এই কষ্ট বড়ে যায় আরো কয়েকগুণ, যেমনটা হয়েছে এবারের শারদীয় দূগাপূজায়। শারদীয় উৎসবে যেখানে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি এলাকা আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে, সেখানে এখানকার অধিবাসীরা অন্ধকারে বসে কষ্টের প্রহর গুণছেন আর কবে আবারো আলোর মুখ দেখবেন, সে চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, নিউ লক্ষ¥ী নারায়ণ কটন মিলস্টি এক সময় সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। সরকারী ব্যবস্থায় মিলটি উৎপাদনে থাকাবস্থায় লোকসানের মুখে পরলে ২০০০ সালের এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে শেয়ার মালিকানায় হস্তান্তর করে সরকার। সেই সুবাদে আজো পর্যন্ত মিলের আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার।

২০১১ সালে মিলটির পরিচালনা পর্ষদ নীট কনসার্ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মোল্লাকে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে নিয়ে আসে এবং জয়নাল আবেদীন মোল্লা মিলটিকে উৎপাদনমূখী করবে জানিয়ে অনুমতি চায় শ্রমিক কর্মচারীদের কাছ থেকে। উৎপাদনমূখী মিলটিতে বহিরাগত বিনিয়োগকারী উৎপাদনের নামে শুরু করে লুটপাট। জোরপূর্বক অনেক শেয়ার হোল্ডারদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় আর যারা অনুমতি প্রদান করেনি, তাদের বাড়ির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ২০১২ সালের জুন মাসে। কোন টেন্ডার ছাড়াই মিলের মেশিনারিজ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র অবাধে লুটে নেয়। এসব অন্যায় কাজে বাঁধা দিয়ে বহুবার অস্ত্রেও মহরা চালানো হয়েছে শ্রমিক কর্মচারীদের উপর। আর নিরিহ শেযারহোল্ডারদের পরিবারের নামে দায়ের করা হয় মিথ্যা মামলা। ২০১৩ সালের ৩১ আগষ্ট বিচ্ছিন্ন কওে দেয়া হয় মিল অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোর বিদ্যুত, গ্যাস ও পানির সংযোগ।

একটা সময়ে গিয়ে যে শেয়ারহোল্ডাররা অনুমতি দিয়েছিলেন, তারা পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ ত্যাগ করেন এবং নিজেদের মালিকার বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সে মামলা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানী আদালতে চলমান আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় যারা অনুমতি প্রদান থেকে বিরত ছিল, তারাও মামলা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানী আদালতে মামলা দায়ের করে। সে মামলায় পরিচালনা পর্ষদকে বিলুপ্ত ঘোষনা করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নিউট্রল চেয়ারম্যান করা হয়। সেই থেকে কোম্পানীর চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here