নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: একদিন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ‘ওসমান পরিবারের’ সঙ্গে সবসময় পাশে থাকা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
ঠিক তার পূর্বেও এবং পরে, এমনকি সবসময়ই নারায়ণগঞ্জে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেই ওসমান পরিবারকে নিয়ে বিষেদাগার করে থাকেন এখানকার সুশীল খ্যাত বাম ঘরানার নেতৃবন্দরা। শুধু সুশীল সমাজের নয়, খোদ আওয়ামীলীগ সমর্থিত হেভীওয়েট নেতাসহ জনপ্রতিনিধিদের কারো কারো কাছেও ওসমান পরিবার মানেই যেন আতংক!

কিন্তু সেই ওসমান পরিবারেরই দুই সন্তান নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ বছরের কাঙ্খিত, প্রত্যাশীত দু’টি চাহিদা সরকারের কাছ থেকে আদায় করে এবার সবাইকে দেখিয়ে দিলেন যে, জনগণের স্বার্থে তারা যেকোন কাজই করতে পারেন।

আর জনগণের চাহিদা পূরণে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের এই উন্নয়ণ কাজে সহযোগিতার নেপথ্যে ছিলেন, ওসমান পরিবারের প্রতি পূর্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ঐকান্তিক ইচ্ছায় এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সদর-বন্দরবাসীর দীর্ঘ বছরের কাঙ্খিত শীতলক্ষ্যা সেতু আর জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধের স্থায়ী উন্নয়ণের মাধ্যমে দূর্ভোগ লাঘব হচ্ছে ডিএনডির প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

কেননা, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান। গত ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি মারা গেলে তার শূন্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়ে আসে তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহনের পর সেলিম ওসমান নাসিম ওসমানের অসম্পন্ন থাকা স্বপ্নকে বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছিলেন।

আর ২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যেদিন প্রথম সংসদে গিয়েছিলেন, সেদিনই ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে পানিসম্পদ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় সাংসদ হওয়ার পর অদ্যবধি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ণ কাজ করলেও একমাত্র ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্প পাশের জন্য সবচেয়ে বেশী দৌঁড়ঝাপ করেছিলেন শামীম ওসমান।

তাই তো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে ¯েœহ করেন বলেই, ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যা তৃতীয় সেতু নির্মানের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন এবং এজেন্ডা না থাকা সত্ত্বেও ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা একনেকে পাশ করিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

যার ফলশ্রুতিতে শহরের সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকা দিয়ে এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে সদর-বন্দরবাসীর দীর্ঘ ২৫ বছরের কাঙ্খিত স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মান কাজ। ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে সেতু নির্মান স্থলের মাটির পরীক্ষা। এখন নকশা অনুযায়ী পাইলিংয়ের কাজ শুরু করতে রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান চীনের সিনো-হাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড এর প্রকৌশলীরা।

প্রায় ৪৪৮ কোটি ৮৩ লাখ ৯১ হাজার টাকায় নির্মিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটি হবে ১২৯০ মিটার। যার মধ্যে ৪০০ মিটার হচ্ছে মূল সেতু এবং ৮৯০ মিটার হচ্ছে রাস্তর দুপাশের ভায়াটেক্ট। সেতুটি হবে চার লেন বিশিষ্ট, সঙ্গে থাকবে জনসাধারণের পায়ে হাঁটার জন্য ফুটপাত ও রিকশা চলার জন্য পৃথক লেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সেতু নির্মানে ৩৩২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সৌদি উন্নয়ন তহবিল (এসএফডি)।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের প্রাণপন প্রচেষ্টার কারনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণে গত বছরের ৯ আগষ্ট একনেকে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেন।

এরপর দ্রুতগতিতে প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ‘ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষার সুপারিশের আলোকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রণয়ন করে। ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্পৃক্ত থাকবে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ কাজ। যার প্রেক্ষিতে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্প পাশ করায় ডিএনডি অধ্যুষিত সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বিশাল গণজমায়েতের আয়োজন করেন শামীম ওসমান।

যেই গণজমায়েতে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম ও প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক উপস্থিত থেকে ডিএনডি বাঁধের এই প্রকল্প পাশ করানোর লক্ষ্যে সাংসদ শামীম ওসমানের প্রচন্ড চাপ প্রয়োগের কথা স্বীকার করেন। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণে সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা প্রকল্প অনুমোদন দেন।

এখন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ বছরের অভিশাপ মুক্ত হতে যাচ্ছেন ডিএনডি এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
উল্লেখ্য, শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মান ও ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্প কাজ শুরু হয় চলতি ২০১৭ সালে, আর এই দু’টি প্রকল্পের কাজই শেষ হওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারন করা হয়েছে ২০২০ সাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here