নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ট্রাকের হেলপার থেকে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে নূর হোসেনের দোর্দ- উত্থান যেমন হয়েছিল, তেমনি তার পতনও ঘটেছে আলোচিত সাত খুনে। একসময় অর্থ সম্পত্তি, ভোগ বিলাস করলেও এখন সাত খুন মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামী হিসেবে কারাগারের অন্ধকারাচ্ছন্ন কনডেম সেলে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
জানাগেছে, সাত খুনের ঘটনার সময়ে নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এনসিসি ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। র‌্যাব ও পুলিশের অপরাধীদের তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৩ নম্বর। সে সময়ে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ মামলার সংখ্যা ২০টির ও বেশি ছিল, তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের খাতায় তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ১১টি। তার আপন ছোট ভাই নূরজ্জামান জজ র‌্যাব ও পুলিশের তালিকায় ছিল ২ নম্বর অপরাধী। তার নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, মুক্তিনগর, রসুলবাগ, মাদানীনগর, আদর্শ নগর, এলাকা ছিল তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রনে।

যেভাবে উত্থান :

নূর হোসেন ১৯৮৬ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ইকবাল গ্রুপের ট্রাকের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৮ সালের দিকে শিমরাইলে আন্ত:জেলা ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম চালু করেন দাইমুদ্দিন নামের এক ট্রাকচালক। ১৯৮৯ সালের দিকে শ্রমিক ইউনিয়নের দখল নেন নূর হোসেন। যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে হয়ে যান বিএনপি নেতা। ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন নূর হোসেনসহ ১৩ জন। শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলামকে পরাজিত করতে মাঠে নামেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন।

ভোট জালিয়াতি করে দুই-আড়াইশ’ ভোটের ব্যবধানে তখন নূর হোসেন জয়ী হন। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে পরবর্তী ইউপি নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন নূর হোসেন। আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমান প্রার্থী দেন সাত খুনে নিহত নজরুল ইসলামকে। ওই সময়ে গিয়াসউদ্দিন জোরেশোরে নূর হোসেনের পক্ষে মাঠে নামলেও তিনি জয়ী হয়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সঙ্গে। হয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা।

নূরের কর্মকান্ড যা ছিল:

নূর হোসেন তার বাহিনীর মাধ্যেমে পরিবহনে চাঁদাবাজি, জায়গা-জমি দখল, শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজি, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে পাথর বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতো। এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে তার উত্থান। ১৯৯২ সালে ও ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি করে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে এপ্রিলে শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর সাথে আদমজীতে খালেদা জিয়ার জনসভায় যোগ দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এর আগে কর্নেল অলি আহম্মেদের গাড়িতে বোমা মেরে আলোচনায় আসে। ১৯৯৬ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে শিমরাইল মোড়ে তার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় নিরীহ রিক্সাচালক আলী হোসেন। ৯৮ সালে শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ২০০১ সালের অক্টোবরে আওয়ামীলীগের পতন ঘটলে ওই রাতেই এলাকা থেকে স্বপরিবারে পালিয়ে যান। পালাতক অবস্থায় শিমরাইলের মনিরকে দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সা¤্রাজ্য নিয়ন্ত্রন করেন। কালা শাজাহান, মনির, রাসেল, জুয়েল, ছানা, আলীসহ রয়েছে ২০/২৫ জনের ক্যাডার বাহিনী। এদের মধ্যে অনেকেই সাত খুনে অভিযুক্ত। নূর হোসেনের ভাই নূরুজ্জামান জর্জের নেতৃত্বে সোনারগাঁয়ের আমান, ডেমরার সেলিম, বাতেনসহ ১৫/২০ জনের আলাদা বাহিনী রয়েছে। এছাড়া তার ভাতিজা শাহজালাল বাদলের নেতৃত্বে জসিম, লিটন, আসলাম, শামীম, সুরুজসহ ২ ডজন সন্ত্রসী রয়েছে।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে বেপোরোয়া নুর হোসেন :

২০১১ সালে নির্বাচনের পর সিদ্ধিরগঞ্জের এরশাদ শিকদার হিসেবে পরিচিত হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের ক্ষেত্রে। যে মাদক ব্যবসা থেকে দিনে অন্তত ৩৫ লাখ টাকা লাভ আসত, সেই মাদকের কারণেই হারাতে হলো প্রথম সন্তান বিপ্লবকে। মাদকের কারনে নিজ সন্তান বিপ্লবকে নিজেই হত্যা করেছেন বলে গুঞ্জন রটেছিল। অন্যদিকে বিপ্লব গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহনন করেছে বলে নূর হোসেন দাবী করেন।

নূর হোসেনের শিমরাইল টেকপাড়া বাড়ির মাত্র ৫০০ ফুট দূরত্বের মধ্যেই হাজী আজিম উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের গলিতেই রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা বিক্রি হত জীবন ধক্ষ ধংসকারী সব ধরনের মাদক। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন আগন্তুকদের আটকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা তার বাহিনীর নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয়। নূর হোসেন কাউন্সিলর ‘অসীম ক্ষমতাধর’ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা তো দূরের কথা প্রতিবাদ করারও সাহস করতো না। মিজমিজি মাদ্রাসা রোডের হাজী সাহাবুদ্দিনের জমি দখল করে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। সিদ্ধিরগঞ্জের সেভেন সেভেন ইটভাটার মালিক মনির হোসেন বাবুলের ইটভাটা জোর পূর্বক বন্ধ করে দিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। নাসিক নির্বাচনে তার সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করায় আমির হোসেন ভান্ডারীকে আটকিয়ে নির্বাচনের ব্যায় বাবদ ক্ষতিপুরন ৬০ লাখ টাকা নেয়। সড়ক ও জনপথের ঠিকাদার মাছুম তার নির্দেশ ছাড়া সানাড়পাড়-মৌচাক এলাকার ফ্লাইওভার নির্মানের কাজ নেয়ায় তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। সানাড়পাড়ের ব্যবসায়ী সুলতানের নিকট থেকে দফায় দফায় ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা নেয়।

প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, ট্রানজিট শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড :

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তরে শিমরাইল আন্ত:জেলা ট্রাক টার্মিনাল। পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ঢাকামুখী সব মাদক পরিবহনই এই টার্মিনালকে নিরাপদ ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করেছে নুর হোসেন। প্রতিদিন হাতবদল হওয়া অন্তত ১০ ট্রাকের প্রতিটির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত (মাদকের ধরন ও দাম অনুপাতে) চাঁদা আদায় করত নূর হোসেন। ট্রাক টার্মিনালে, কাউন্সিলরের অফিসের পিছনে (সাবেক জিহাদ হোটেল), টেকপাড়া, ডেমরা আদমজী রোডে ফজলুর রহমান ও আমিজ উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের পিছনে প্রকাশ্যেই বিক্রি হত ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, বিয়ারসহ সব ধরনের মাদক। এসব মাদক ব্যবসার মালিকানা সরাসরি হোসেন চেয়ারম্যানের ছিল। যা তদারকি করতো নূর কাউন্সিলের সহযোগী শাজাহান, সানাউল্লাহ, আজাহার, আলী মোহাম্মদ ও তারসিল।

প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মাদক খুচরা ও পাইকারী বিক্রি হতো। মাদক বিক্রির লাভ থেকে দিনে অন্তত ৩৫ লাখ টাকা পকেটস্থ করতেন নূর হোসেন। নূর হোসেন কাউন্সিলরের মাদক ব্যবসা প্রশাসনের সর্বস্তরেই জানা ছিল।

নূর হোসেনের আমলে সকলের দলপতি হোসেন চেয়ারম্যান ওরফে নূর হোসেন স্থানীয় ট্রাক টার্মিনাল, চুন ফ্যাক্টরীর চাঁদাবাজি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করতো। তার জ্ঞাত কোনো ব্যবসা না থাকলেও তিনি দুটি দামি গাড়ি ব্যবহার ও বিলাসী জীবন-যাপন করে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের হিস্যা বণ্টন করতেন। নূর হোসেনের অধীনস্থ বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী যে কোনো সময় রাজধানী ঢাকাকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখতো। গত ১৯৯৮ সালে নূর হোসেনই বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার চট্টগ্রাম অভিমুখী রোড মার্চের গাড়ি বহর আটকে দিয়েছিল।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। বর্তমান সরকারের আমলে ওই রেড ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

যাদের ছত্রছায়ায় গডফাদার হয় নুর হোসেন:

সরকারের উর্দ্ধতন মন্ত্রী থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও ছিল নূর হোসেনের ঘনিষ্টজন। নূর হোসেনকে দেখা যেত বিভিন্ন মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। এমনকি ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রধানমন্ত্রীর এক অনুষ্ঠানের মঞ্চেও নূর হোসেনকে দেখা গেছে দাপটের সঙ্গে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা শুরু থেকেই প্রশ্রয় দিতে থাকে নূর হোসেনকে। আর এতে করেই ধীরে ধীরেই গডফাদার হয়ে উঠতে থাকে নূর হোসেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার নামও উঠে এসেছে যাদের সঙ্গে নূর হোসেনের ছিল গভীর সম্পর্ক। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রতিবাদ জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, নূর হোসেনের উত্থানের পেছনে সাবেক জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামেরও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছিল। নূর হোসেনকে ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার পেছনে ছিল ডিসি ও এসপির হাত। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসাও চলতো ডিসি এসপিকে টাকা দিয়ে। যেই কারনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃংখলা কমিটির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেছিলেন, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অধিবেশনে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে নূর হোসেনের অশ্লীল নৃত্য, মাদক ব্যবসার বিষয়টি উত্থাপিত করেছিলেন। বিষয়টি মন্ত্রী দেখবেন বলেও জানান।

এদিকে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশ ছেড়ে ভারতে আত্মগোপনে থাকে নূর হোসেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ও ৮মে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে তার শো ডাউন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও শেষ মুহুর্তে প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। অবশেষে ২০০৯ সালের ৫ জুন সকাল ১১টার দিকে তিনি ২-৩ শ’ লোকজন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় আসেন। তখন সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ছিল যার প্রশাসক ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুল মতিন প্রধান। কিন্তু নূর হোসেন তখন চেয়েছিলেন এর প্রশাসক হতে। তখন থেকেই তিনি পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে যান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার কাছে পৌঁছে যান। তখন নূর হোসেনকে নবগঠিত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ‘বিশেষ অনুরোধ’ জানিয়ে ‘অতি জরুরী’ চিঠিটি লেখেন এইচটি ইমাম। ২০০৯ সালের ৮ জুন লেখা ওই চিঠিতে তিনি তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবর সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত নূর হোসেনকে নবগঠিত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য “বিশেষ অনুরোধ” জানিয়ে “অতি জরুরী” চিঠিটি (স্মারক নং : ম/উপদেষ্টা/০১/২০০৯-১৯) পাঠিয়েছিলেন। আলোচিত সেই চিঠির পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের একক অধিপতি হয়ে উঠতে থাকেন নূর হোসেন। যদিও তৎকালীন স্থানীয় এমপি কায়সার হাসনাতের বিরোধিতার কারণে নূর হোসেনকে পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়নি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সব কিছুরই যেন পতন ঘটে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সাত খুনের পর। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী নূর হোসেনকে প্রধান আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। তবে সেখানে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

২০১৪ সালের ১৪ জুন রাতে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। পরে ওই বছরের ১৮ আগস্ট নূর হোসেন, ওহাদুজ্জামান শামীম ও খান সুমনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বারাসাত আদালতে চার্জশীট জমা দেয় বাগুইআটি থানা পুলিশ। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দমদম কারাগার কর্তৃপক্ষ নূর হোসেনকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর ১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে উপস্থাপন করা হয় নূর হোসেনকে।

দীর্ঘ ১১ মাসের তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল ভারতের কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার-ইন-চার্জ মামুনুর রশীদ মন্ডল।

পরবর্তীতে, ২০১৭ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৈয়দ এনায়েত হোসেন নূর হোসেনকে সাত খুনের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। এরপর এই রায়ে বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে সেখানেও তাঁর মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here