নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: টাকার বিনিময়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠন করে এবার মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছে ‘রায় এন্ড সন্স’-এমনটাই মনে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। আর নেপথ্যে কাজ করছেন জিয়া পরিবারের সদস্য পরিচয়ে কমিটি বাণিজ্যের আরেক ঠিকাদার কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। যিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা কূটচাল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতাহীন থাকাকালীণ সময়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত মো: শাহ আলমকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি করার পর এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ঘোষনা করেছেন রায় এন্ড সন্সের কর্ণধার বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়। আর গয়েশ^রের এই ঘোষনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের শংকা তৈরী হচ্ছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। নারায়ণগঞ্জের মতো সারাদেশেই যদি এভাবে টাকাওয়ালাদের কাছে মনোনয়ন বিক্রি করা হয়, তাহলে বিএনপি’র ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন কোনদিনই পূরণ হবে না বলে মনে করে তৃণমূল।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র চলমান বিশৃঙ্খলার জন্য বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় অনেকাংশে দায়ী। প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে টাকার বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন কমিটিতে পদ পদবী বিক্রি করে থাকেন। গয়েশ^রের অধীনে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র একটা গ্রুপ এই পদ বানিজ্য করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। ফলে পদ বানিজ্য করা এই চক্রটিকে ‘রায় এন্ড সন্স’ নামে অভিহিত করে থাকেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠন হওয়ার সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক ত্যাগী নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রায় এন্ড সন্সে সুলভ মূল্যে পদ পদবী বিক্রি হচ্ছে, আগে আসলে আগে পাবেন’ লিখে ষ্টেটাস দিতে দেখা গেছে। কিন্তু সকল প্রকার নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অসাধূ চক্রটি ঠিকই টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন প্রকৃয়া শেষ করতে সমর্থ হয়।

সূত্র আরো জানায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কমিটি গঠন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর এবার মনোনয়ন বানিজ্যে মেতে উঠেছে ‘রায় এন্ড সন্স’ বাহিনী। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র অংশ গ্রহনের সবুজ সংকেত পাওয়ার থেকে সক্রিয় হয়ে উঠে চক্রটি এবং বেছে বেছে টাকাওয়ালা প্রার্থীদেরকে টার্গেট করে তাদের তৎপরতা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। নারায়ণগঞ্জে যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শিল্পপতি শাহ আলমকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকে যেখানে মামলা হামলায় বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা, সেখানে একদিনের জন্যও রাজপথে দেখা যায়নি এ বিএনপি নেতাকে। যার ফলে বিএনপি’র রাজনীতি করেও এক যুগে কোন মামলায় আসামী না হওয়ার বিরল রেকর্ডের অধিকারী হন শাহ আলম।

এক যুগ রাজপথে দেখা না গেলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো মাথাচারা দিয়ে উঠেছেন কল্যাণ পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা শাহ আলম। নিজ বাড়িতে ঈদ পূণমিলনীর আয়োজন করে ভূড়িভোজ করাচ্ছেন নেতাকর্মীদের। সেই সাথে কৌশলে নিজের মনোনয়ন স্বপ্নটাও পূরণ করতে চাচ্ছেন। এ জন্য মনোনয়ন বানিজ্যের মূল হোতা গয়েশ^র চন্দ্র রায়কে বিপুল অর্থ খরচ করে নিয়ে আসেন তার বাড়িতে। আর শাহ আলমের টাকা খেয়ে রায় এন্ড সন্সের কর্ণধার গয়েশ^র চন্দ্র রায় শাহ আলমকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ঘোষনা করে যান বলে চাউর উঠেছে। আর এক্ষেত্রে গয়েশ^র রায়কে নাকি অভয় দিয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ বলে জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা।

কিন্তু গয়েশ^র রায়ের এই ঘোষনা মেনে নিতে পাছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। দীর্ঘদিন দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে শিল্পপতিদের টাকার কাছে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি কোনভাবেই মেনে নেবে না তৃণমূল। আর তাই রায় এন্ড সন্সের প্রতি হুশিয়ারী জানিয়ে তারা বলেছে, আগামী নির্বাচনের আগে অর্থলোভী এ সকল কেন্দ্রীয় নেতাদেও অপতৎপরতা ঠেকাতে না পারলে বিএনপি’র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন কোনদিনই পূরণ হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here