নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিন্ম আয়ের মানুষের মোটা চালের দাম নিয়ে নগরীতে যখন কারসাজি চলছে তখন বৃষ্টির অজুহাতে আরেক দফা বেড়ে গেছে মাছ, মাংসসহ সকল প্রকারের সবজির দাম।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকালে নগরীর নিতাইগঞ্জ পাইকারী ও খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখাগেছে, নি¤œ আয়ের মানুষের মোটা চালের দাম এখন প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু মোটা চালই নয়, বাজারে সব ধরনের চালের দামই বিগত বছরের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কেজিতে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল।

দেশের ইতিহাসে স্বাধীনতার পরে এটা সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এর আগে ২০০৭-২০০৮ সালে জরুরী অবস্থার সময় মোটা চালের দাম ৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। সরু চালের দাম উঠেছিল ৫৬ টাকায়। এখন সরু চালের দাম ৬০ টাকা।

চালের দাম বাড়ার পেছনে মিলার ও ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দূষলেও সরকার ও জনগণ মনে করছে দু’পক্ষের কারসাজিতেই বাড়ছে দাম।

নিতাইগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী হাজী সোলেয়মান মিয়া জানান, গত বছর তিনি যে চাল ২৬-২৭ টাকা দরে বিক্রি করেছেন এবছর সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৭ টাকা। চালের দাম এ বছরের মতো এতটা বাড়েনি আগে।

অপরদিকে, কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টিকে অজুহাত করে সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। নগরীর বাজারগুলোতে সব সবজির দামই বেড়েছে। বৃষ্টির অজুহাতে শুক্রবার সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। মাছ-মাংসের দামও বেশ চড়া। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগীর দামও বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। তবে রসুনের দাম কিছুটা কমেছে।

দ্বিগুবাবুর বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক নয় তাই অধিকাংশ সবজি ও মাছ মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ সুযোগ পেলেই বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন। বৃষ্টিটা কেবলমাত্র অজুহাত।

দ্বিগুবাবুর বাজার, মীনাবাজার, মাছুয়াবাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে যা ছিল ৬০ টাকা। শশা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-২৪ টাকা। লেবু প্রতিহালি ৩০ টাকা, যা গাত সপ্তাহে ছিল ২৪ টাকা।

প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ২৩ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬-২২ টাকা। বাধাকপি প্রতিপিচ ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা, করলা প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৫০ টাকা।

এছাড়া শিম ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার পিচ ১৫-২০ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স, কচুরলতি ৪০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতিহালি ২৪-৩২ টাকা, প্রতি আঁটি লাল শাক, পালং শাক গত সপ্তাহের থেকে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, পুঁই ও ডাটা শাক ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি পেঁয়াজ প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৩০-৩২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫-২৮ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। শুক্রবার প্রতিকেজি ১০ থেকে ২০ টাকা কমে দেশী রসুন ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যা হঠাৎ করে বেড়ে ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এছাড়া মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের মাছের দাম প্রতি কেজি বেড়েছে ৫ থেকে ২০ টাকা। শুক্রবার প্রতি কেজি রুই ২৬৫-৩৬৫ টাকা, কাতলা ৩৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩৫-২০০, সিলভার কার্প ১৮০-২০০ টাকা, আইড় ৪৫০-৬০০ টাকা, বাইলা মাছ প্রকার ভেদে ৩০০-৪৫০ টাকা, বাইন মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪৫০-৮০০ টাকা, পুঁটি ২০০-৩৫০ টাকা, পোয়া ৪০০-৪৫০ টাকা, মলা ৩২০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৭০০, দেশী মাগুর ৪০০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৩৫০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here