নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরীর প্রধান সড়ক জুড়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও বেড়েই চলেছে ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবনতা। আর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দ্রুত অপরাধীদের সনাক্তের আশ^াস দিলেও কার্যত দীর্ঘদিনেও পুলিশ কোন অপরাধীকেই সনাক্ত করতে পারছেনা।
তাই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরীর প্রধান সড়ক গুলোতে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরা গুলো কি আদৌ সচল আছে?

কেননা, নগরীর ২ নং রেলগেট এলাকা থেকে চাষাড়া হয়ে খানপুর পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানোর পর বড় বড় দু’টি ঘটনা সংঘটিত হয়।

যার মধ্যে একটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশাকে সড়কের পাশেই বিষ জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যার চেষ্টা এবং ভোর বেলা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক ভারতীয় পরিবারের সবর্¯^ খুওয়ানোর ঘটনা।

এই দু’টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করনের আশ^াস দিলেও অদ্যবধি কোন অপরাধীকেই সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে বেড়াতে এসে একদল ছিনতাইকারীর কবলে পরে সর্বস্ব খুইয়েছেন একটি ভারতীয় পরিবার। পাশাপাশি জীবন বাঁচাতে রিক্সা থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন মা শুক্লা দে ও মেয়ে রক্তিমা দে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৬ টার দিকে শহরের মিশন পাড়া রোডে এ ঘটনা ঘটে। ছিসতাইকারীদের কবলে পড়ে পাসপোর্ট, মুঠোফোন, ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জিনিসপত্র হারিয়ে এখন দু:শ্চিন্তায় পড়ে গেছেন কলকাতা বাটার নগর এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা রতন দে।

এঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভুগীরা। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের সনাক্তে পুলিশ চালিয়ে যাচ্ছেন আপ্রাণ চেষ্টা বলে দাবী করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ্ পারভেজ।

এরআগে, গত ২৩ আগস্ট বুধবার রাতে সাত খুন মামলা পরিচালনা করা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থিত হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামা তৌহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহুর্তে পড়া শেষ করে ওই বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে নিচ তলায় নেমে নিজেদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল সে। ঐসময় কোচিং সেন্টারের সামনে গিয়ে বাবার বন্ধু পরিচয় দিয়ে স্যুাট টাই পরিহিত এক ব্যাক্তি মাইশাকে তার মুখে মিষ্টির সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে দেয়। পরে প্রাপ্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই সে বাসায় ফিরে আসে।

এঘটনায় মাইশার মা সেলিনা ওয়াজেদ মিনু ২৪ আগষ্ট বিকেলে অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামী করে অপহরন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে বিষ খাইয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি র‌্যাব-পুলিশ।

এমনকি ঘটনার দিন স্থান পরিদর্শন করে পুলিশ সুপার মঈনুল হক সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শীঘ্রই জড়িতদের সনাক্তের আশ^াস দিলেও পিপি কণ্যা চেষ্টা মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করার পরেও কোন অগ্রগতি না হওয়ায় রহস্যাবৃত্ত রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল।

তাহলে নগরী জুড়ে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরা কি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোন কাজে আসছেনা নাকি অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছে সিসি টিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রকরা- এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো: শরফুদ্দীন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘পিপি কণ্যাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাস্থলে আমাদের কোন সিসি টিভি ক্যামেরা ছিল না। আর ভারতীয় পরিবার যেখানে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন, সেখানকার সিসি টিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here