নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্বামী নিখোঁজ হওয়ায় অভিযোগে দেবরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভাবী।
রবিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ জাভেদুল হক রিপনের স্ত্রী মৌ এই অভিযোগ করেন। এসময় তার একমাত্র ছেলে রাবিয়াম হক নবান্ন (৯) উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মৌ তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তার স্বামী জাবেদুল হক রিপন ‘পথের সময় নামের’ একটি অনলাইন পত্রিকায় কাজ করেন। ভালবেসে ২০০৮ সালে জাবেদুল হক রিপনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সদর উপজেলার ফতুল্লার ৭নং উত্তর চাষাড়া এলাকায় তার শশুর বাড়িতে বাসবাস করে আসছে। ২০১৫ সালের ১৪ জুন তার শাশুড়ী মৃত্যুবরন করার পর বর্তমানে তার শশুর অসুস্থ্য ও মানসিক রোগী।

গত ২৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে তিনি তার শশুর বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী জাবেদুল হক রিপন কোথায় আছেন জানতে চান তার দেবর রাশেদুল হক সুজনের কাছে। সে তখন বলে এ ব্যাপারে তোমাকে বলতে আমি বাধ্য নই। আমি তখন বলি আমার স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রথমে আমি থানায় জিডি করতে গেলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আমার জিডি গ্রহন করেনি। এর কয়েকদিন পর থানায় জিডি গ্রহন করার পর পুলিশ আমার শশুর বাড়িতে যায়। পরে বাড়িতে পুলিশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে আমর মামা শশুর হারুন, বাবুল, শিমুর, দেবর সুজান তার স্ত্রী আইরিন আমাকে জানায় তোর স্বামী রিপনকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে। আমি জানতে চাইলে কেন আমাকে না বলে তাকে পাঠানো হলো এর উত্তরে আমার দেবর সুজন বলেন তোকে জিজ্ঞস করার প্রয়োজন নাই। তুই তোর বাপের বাড়িতে চলে যা প্রয়োজনে তোকো প্রতিমাসে আমি পাঁচ হাজার করে টাকা পাঠিয়ে দিবো। তার ব্যবহৃত ফ্লাটটি প্রয়োজনে ভাড়া দেওয়া হবে বলে জানায়দেবর সুজন।

তিনি আরো জানান, আমার শাশুড়ীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর আমার মামা শশুর সিদ্ধান্ত দেয় এখন থেকে ফ্লাটের ভাড়া প্রতিমাসে রিপন নিবে ৩০ হাজার টাকা, সুজন নিবে ৩০ হাজার টাকা এবং তদের বোন সুমি নিবে ১৫ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা আমার শশুরের চিকিৎসার জন্য রাখা হবে। আর বাকী যে টাকা থাকে তা তিন ভাই বোনের নামে একাউন্টে জমা হবে। রিপন এসব কথা মেনে নিয়ে কোন মাসেই আমার স্বামীকে টাকা দেয় না। ভাড়ার সব টাকা রিপন একা তুলে নেয়। আমার স্বামী রাগ করে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার রিপন এর কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান রিপন।

মৌ আরো বলেন, প্রতিমাসে দেড় লাখ টাকা তাদের বাড়ি ভাড়া উঠে। এছাড়া তার শশুরের মুন্সিগঞ্জে বয়রাগতিদে থাকা জমি থেকে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আসে। সুজন এই টাকা পুরোটাই নিয়ে নিচ্ছে। আমি জানতে পেরেছি আমার স্বামীকে ঢাকার উত্তরার বিজয় রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে স্বামীর কোন সন্ধান পাইনি।

তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আমার শশুর বাড়িতে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক ঘরের দরজায় নক করে ভেতরে প্রবেশ করে আমার স্বামীর হাত, পা বেঁধে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় রিপন চিৎকার করে বলতে থাকে আমার গার্ডিয়ান আমার ভাই না, আমার স্ত্রী মৌ। কিন্তু তারা কোন কথাই শুনেনি।

তাই রিপনের স্ত্রীর ধারনা শ^শুরের সম্পত্তির লোভে তার দেবর সুজন রিপনকে গুম করেছেন।

তাদের একমাত্র ছেলে রাবিয়ম হক নবান্ন (৯) শহরের আমলাপাড়া আইটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। সে তার বাবাকে ফিরে পেতে চায়।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে নবান্ন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডির এই প্রতিবেদকের কাছে এসে বলতে থাকে আংকেল আমার বাবাকে আপনি এনে দিতে পারবেন?

মৌ আরো জানায়, বর্তমানে তিনি নিরাপ্তাহীনতায় ভূগছেন তার ছেলেকে নিয়ে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে মোবাইলে তাকে ও তার ছেলেকে অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকির বিষয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত০৭/০৮/২০১৭ইং তারিখে একটি সাধারন ডায়রী করেন। যার নং- ৩৫৫। মৌ তার স্বামীকে ফিরে পেতে প্রাশাসনের সাহায্য কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here