নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সদর উপজেলার ফতুল্লাধীন কাশীপুর ইউনিয়নের হোসাইনী নগর এলাকাতে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িতদের আশ্রয় ও মদদদাতা মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার ও তার ভাই শহর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহাম্মেদ প্রশাসনের নজরদারীতে রয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানাগেছে।
কিন্তু উক্ত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২২ জন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ১২৫ জন আসামী থাকলেও তন্মধ্যে মাত্র ২ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ফতুল্লা মডেল থানা ও ডিবি পুলিশ, বাকীরা রয়েছে অঁধরা।

এদিকে, ঘটনার প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে শুরু করেছে জোড়া খুনের ঘটনাস্থল কাশীপুরস্থ হোসাইনী নগর এলাকা। জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত অনেক আসামীর মধ্যে থাকা কারো কারো নাম প্রকাশ করতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তেমনি দু’জনের নাম পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। যারা এই জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং উভয়েই মজিদ-হাসান গ্রুপের অনুসারী। এরা হলেন, শহরের ১নং বাবুরাইল এলাকার বান্দি বাড়ীর বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মিয়ার পুত্র জুম্মান (৩০) ও মোতালিবের পুত্র মান্না (৩৫)। ঘটনার দিন মজিদ বাহিনীর সাথে এই দু’জনও কাশীপুর এসেছিল বলে জানাযায়।

অপরদিকে মামলার তদন্তে থাকা ডিবি পুলিশও দাবী করছে, জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত গ্রেফতারকৃত দুই জন আসামী রাকিব ও রাজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার এজাহারে নেই এমন অজ্ঞাত থাকা অনেকের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়াও হত্যাকান্ডে মদদদাতা হিসেবে বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদ এর নাম আসামীদের তালিকায় না থাকলেও এজাহারে উল্লেখ থাকায় তাদের দু’জনকেই নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানাযায়।
এদিকে, জোড়া খুনের পর আলোচনায় চলে আসায় মজিদ খন্দকার আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু আত্মগোপন বলতে মানুষ দূরে কোথাও ভেবে থাকলেও মজিদ খন্দকার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্টজনেরা। আর হাসান আহাম্মেদ তার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভার চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। যেখানে বিভার চিকিৎসা চলছে, সেই হাসপাতাল থেকে বিভাকে ছাড়পত্র দিতে আরো দু’সপ্তাহের মত লেগে যেতে পারে বলেও সূত্রটি জানায়।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বাবুরাইল, তাঁতীপাড়া, আমবাগান, বাংলাবাজার, হোসাইনী নগর এলাকাতে জমি ও মাদক ব্যবসার জন্য একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন বিএনপি নেতা ভ্রাতৃদ্বয় মজিদ খন্দকার ও হাসান আহম্মেদ। আর এই দুই ব্যবসা পরিচালনার আধিপত্য বিস্তার নিয়েই তাদের গ্রুপের সন্ত্রাসী বাপ্পী শিকদার ও মিল্টনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এই বিরোধের জের ধরে মিল্টন বাহিনী বাপ্পী শিকদারের উপড় হামলা চালায়। তার প্রেক্ষিতে গত ১২ অক্টোবর কাশীপুর হোসাইনী নগর রাজীবের রিক্সার গ্যারেজে বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার বাপ্পী শিকদার বাহিনীর লোকজনদের সাথে নিয়ে এসে মিল্টনের সাথে শালিসী বৈঠক করে। কিন্তু সেই বৈঠকে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শালিস থেকে মজিদ খন্দকারের সাথে বাপ্পী শিকদারের লোকজন বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাপ্পী শিকদারের বস জাহাঙ্গীর বেপারীর নেতৃত্বে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে মিল্টনের বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর করে। পরে রাজীবের রিক্সার গ্যারেজে গিয়ে মিল্টন ও তার সাথে থাকা তারই মাল্টিপারপাস ‘ছায়াবৃত্ত শ্রমজীবি সমবায় সমিতির’ ম্যানেজার পারভেজকে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এই ঘটনায় নিহতদের পরবিারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার তা ডিবিতে বদলী করেন।

মামলার বাদী ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, কাশীপুর হোসাইনী নগর এলাকাতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রন করে ভূমিদস্যু জাহাঙ্গীর বেপারী। তার গ্রুপের লোক ছিল মিল্টন ও পারভেজ। এর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে মিল্টন ও জাহাঙ্গীর বেপারী আলাদা হয়ে যায়। তখন এক গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল জাহাঙ্গীর বেপারী আর অপর গ্রুপের মিল্টন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকারে রূপ নেয়। এর জের ধরে গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টায় মিল্টনের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর বেপারীর গ্রুপের সদস্য বাপ্পীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপয়ে জখম করে মিল্টন বাহিনী।

ওই ঘটনার জের ধরে গত ১২ অক্টোবর শহরের বাবুরাইল এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪০), ১নং বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বাপ্পী (২৮), রবিন (৩০), রকি (২৮), ভূইয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আমান (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার খোকা মিয়ার ছেলে শহিদ (৩০), বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার আসলাম (৫০), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে মাহাবুব (৩০), বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের চাচাতো ভাই শিপলু (৩০) ও ভাগ্নে রাসেল (৩৩), বাবুরাইল এলাকার মুক্তা (২৮), পাইকপাড়া জিমখানা ডিমের দোকান এলাকার শরীফ (৩৩), বাবুরাইলের রানা (২৮), বাবুরাইলের কিরণ (৩০), মানিক (৩০), বাবুরাইলের আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২৬), বন্দর এলাকার রাব্বি (৩০), ১নং বাবুরাইলের নিলু সরদারের ছেলে সোহাগ (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার রাকিব (২৭), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০), বাবুরাইল এলাকার রিক্সা আবুল (৩৫), একই এলাকার ফরহাদ (৫২) সহ অজ্ঞাত আরো ১শ থেকে ১২৫ জন সন্ত্রাসী রামদা, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে মিল্টনের বাড়ীতে হামলা করে। সেখানে তারা বাড়ী ভাংচুর করে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজীবের মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মিল্টন ও পারভেজের উপর হামলা করে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুপিয়ে জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here