নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বলা হয়ে থাকে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ মানেই শামীম ওসমান। আর তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণে এবং আওয়ামীলীগের ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান করতে যাচ্ছেন একটি বৃহৎ সমাবেশ।
যেখানে তিনি আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টিসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ^াসী সকল দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এমনকি সদ্য হকার ইস্যুতে দ্বন্দ সৃষ্টি হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকেও এই সমাবেশে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শামীম ওসমান।

আর তাই আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেল গেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতব্য শামীম ওসমানের বৃহৎ সমাবেশের দিকে এখন তাকিয়ে আছেন রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম কর্মীসহ সর্বস্তরের নাগরিক।

কারন, গত বছরের মে মাসে জেলা ও মহানগর যুব মহিলালীগের কমিটি ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার সাথে মনমালিন্যের সৃষ্টি হয় শামীম ওসমানের। যার ফলে গত বছরের ১২ আগষ্ট নগরীতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালী করলেও শামীম ওসমানের আমন্ত্রণ স্বত্ত্বেও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি হাই, আনোয়ার, আইভী, খোকনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু তারপর গত অক্টোবরে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর প্রক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় আয়োজিত সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় এই নেতবৃন্দদের একমঞ্চে আনতে সক্ষম হন শামীম ওসমান। যদিও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন কেবল আইভী।

এরপর সম্প্রতি হকার ইস্যুতে সিটি মেয়র আইভীর সাথে সংঘাতের ঘটনায় সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার পর শামীম ওসমান আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে নতুন করে সমাবেশের ডাক দেন।

গত ২৭ জানুয়ারী ফতুল্লা পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী বৃহৎ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছিল আছে ও থাকবে। এখানে অন্য কেউ কর্তৃত্ব দেখাতে পারবে না। যারা স্বপ্ন দেখছেন আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে না তারা বোকা। আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে এবং শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। এজনই আমাদের লড়াই। সেজন্যই ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বৃহৎ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সবাইকে দাওয়াত দিলাম।’

শামীম ওসমান প্রত্যাশা করে এও বলেন, ‘আমি এমন সমাবেশ করতে চাই, যা দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুকটা ভরে যায়। তাই আসেন একত্রে বসি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখি। গ্রুপিং করতে চাইলে নির্বাচনের পরে করেন। আগে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনেন। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের সঙ্গে আমার কোন বিভেদ থাকবে না। আমাদের দলের সেক্রেটারীর মতে অনেক হাইব্রীড ঢুকে গেছে। তাই আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে নারায়ণগঞ্জে তাদের স্থান হবে না।’

তিনি দাবী করে বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন সমাবেশটি হবে নরমাল তাহলে সেটা যথার্থ না। সে কারণেই ৩ ফেব্রুয়ারীর সমাবেশ আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেদিন অনেক কিছুই বলবো।’

এদিকে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলায় প্রাক নির্বাচনী প্রচারনায় সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জেও সাংগঠনিক সফরে আসছে টিম।

আর ঠিক তার আগে শামীম ওসমানের এই বৃহৎ সমাবেশ থেকে দলের নেতাকর্মীদের জন্য কি মাসেজ তিনি দেন, আর সমাবেশটিও কতটা সাফল্য মন্ডিত হয়, সেই দিকেই এখন রয়েছে সবার নজর বলে জানান রাজনৈতিকব বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here