নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ ঘাটে কাঠ-বাঁশ দিয়ে তৈরী করা সাঁকো বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীরা। তাছাড়া রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে আরো কয়েক গুণ। ফলে প্রায়ই মাচা ভেঙ্গে পানিতে পরে যাচ্ছে যাত্রীরা, ঘটছে মানুষ আহত হওয়ার মতো ঘটনা। রবিবার রাতে এ রকমই এক দূর্ঘটনায় প্রায় ১০/১২ জন যাত্রী মাচা ভেঙ্গে নদীতে পরে যান এবং মারাত্মকভাবে জখম হন। আর তাই অবিলম্বে নবীগঞ্জ ঘাটের দুই পাশে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা ও বাঁশ-কাঠের মাচাটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
সরেজমিনে সোমবার (১০ এপ্রিল) নবীগঞ্জ ঘাটে গিয়ে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। ঘাটের পূর্ব অংশে কোন বাতির ব্যবস্থা নেই। বাঁশ-কাঠের মাচাটি খুবই নড়বড়ে, বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা। সকালে ও সন্ধ্যায় অফিস টাইমে যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকায় এ মাচা দিয়ে ট্রলারে উঠতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। আর বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেন নৌকা ও ট্রলার চালকরা।

এ সময় বেসরকারী চাকুরীজীবী ফরহাদ হোসেন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, এমপি সেলিম ওসমান নবীগঞ্জ ঘাট টোল ফ্রি কওে দেওয়ায় যাত্রীদের অনেক উপকার হয়েছে। কিন্তু ঘাটের অবকাঠামো ঠিক না করায় সে উপকারের সুফল পাচ্ছে না যাত্রীরা। ট্রলারে উঠতে হয় যে মাচাটি দিয়ে সেটা বেশ নড়বড়ে ও ভাঙ্গা। অফিস টাইমে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় প্রায়ই মাচার উপরে ঘটে দূর্ঘটনা। যেমন গতকাল রাতেই মাচা ভেঙ্গে নদীতে পরে গেছেন ১০/১২ জন যাত্রী। কয়েকজন গুরুতর অহতও হয়েছেন। তাছাড়া তাদেও সঙ্গে থাকা মোবাইলসহ মূল্যবাণ সামগ্রী পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এবং দীর্ঘদিন মাচাটি মেরামত না করায় এ সকল ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা। তাই আমাদের মতো ভুক্তভোগীরা টোল ফ্রিও পাশাপাশি ঘাটের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আমাদেও এমপি সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ সময় অপর এক যাত্রী গার্মেন্টস কর্মী আকতার হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আগে যখন টোল দিয়ে পারাপার করতাম, তখন দুইটা ট্রলার চলতো। এখন টোল ফ্রি করার পর একটা ট্রলার চলাচল করে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অজুহাতে সেই একটা ট্রলারও বন্ধ করে রাখে। তখন বাধ্য হয়ে দুই টাকা দিয়ে ছোট ট্রলারে পার হতে হয়। সেই ছোট ছোট ট্রলারগুলিতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয়। গত দুইদিন আগে এমনি একটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ঘাটের সামনে হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু মাঝ নদীতে ডুবে গেলে কি হবে অবস্থা! অথচ এগুলো দেখার যেনো কেউ নেই। শুধু আইন করলেই চলবে না, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা তদারকীও করতে হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here