নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নৌ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সারাদেশের নৌপথ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা। সেই সাথে নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ডসহ বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তারা নৌপথে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত বলেও জানিয়েছেন তারা এবং অবিলম্বে এসব চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। নৌযান শ্রমিকদের ৭ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এই হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

রবিবার (৬ আগষ্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, নৌপথে স্বল্প খরচে নৌযান শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পণ্য সরবরাহ করছে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো, নদী পথে প্রতিনিয়তই নৌ শ্রমিকরা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ডাকাতের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে, এমনকি জীবন পর্যন্ত দিতে হচ্ছে হতভাগ্য নৌশ্রমিকদের। সরকার নৌশ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য নৌ পুলিশ ও কোষ্টগার্ড সৃষ্টি করলেও তারাই রাতের বেলা ট্রলার নিয়ে প্রতিটি নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সনদপত্র দেখার নামে নৌপথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অসংখ্যবার অভিযোগ করা হগলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নৌপথে ফ্রিষ্টাইল চাঁদাবাজি কারা করে, কারা এর শেল্টারদাতা, সব নৌশ্রমিকরা জানে এবং চিনে। আর তাই নৌপথে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ না হলে নৌশ্রমিকরা নদী ছেড়ে উপরে উঠে আসবে, তখন এ সকল চাঁদাবাজরা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। প্রয়োজনে সারাদেশের সকল নৌপথ অচল করে দেয়া হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা কর্মস্থলে কোন নৌশ্রমিক মারা গেলে ছয় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবী পেশ করেন।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ সভাপতি ওহেদ মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদারসহ নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৫নং ঘাটে গিয়ে শেষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here